করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পুরো দেশে চলছে ২১ দিনের লকডাউন। ইতিমধ্যেই এই লকডাউনের এক তৃতীয়াংশ পেরিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, বাড়ির মধ্যে তালাবন্ধ অবস্থায় ৭টি দিন কাটিয়ে দিয়েছেন ভারতীয়রা। আরও ১৪ দিন এভাবেই থাকতে হবে। কিন্তু, যেখানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপের মতো বা এশিয়ার উন্নত দেশগুলি, সেখানে ভারতের মতো গরীব দেশ কি এই লড়াই জিততে পারবে? লকডাউনে বাড়ি বসে বসে, অনেকের মনেই এই শঙ্কাময় প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে।

এই অবস্থায়, জনসাধারণকে আশ্বস্ত করলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর। লকডাউনের মধ্যে মাঝে মাঝেই তিনি বাড়ি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক ভিডিওটিতে, তিনি মেনে নিয়েছেন, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইতালি, চিন, কোরিয়া বা স্পেন - ভারতের থেকে অনেক বেশি সম্পদশালী এবং আর্থিক দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে। তাই, তারা যেখানে করোনাভাইরাসকে সামলাতে পারছে না, সেখানে ভারত কীভাবে সামাল দেবে এই চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক।

ছ'দিনে কতটা কমল করোনার জারিজুরি, লকডাউন-এ কি আদৌ কাজ হচ্ছে, দেখুন ভিডিও

করোনা যুদ্ধ জিততে ঘরে থাকুন, সবাইকে বার্তা দিলেন সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর

২১ দিনের লকডাউনের খেসারত দিতে হতে পারে ১৩ কোটি কাজ হারানোর মধ্য়ে দিয়ে

তবে, রাজীব চন্দ্রশেখর মনে করিয়ে দিয়েছেন চার্লস ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের কথা। মনে করিয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ জীব-বিজ্ঞানীর অমোঘ উক্তি,  'সবচেয়ে শক্তিশালী বা সবচেয়ে বুদ্ধিমানরাই টিকে থাকবে এমনটা নয়, যারা পরিবর্তনের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো মানিয়ে নিতে পারবে তারাই থাকবে'।

অর্থাৎ, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমাদের জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তন এসেছে, তারসঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিনের কাজ, বা সিনেমা দেখা, শপিং-এ যাওয়া, বন্ধুদের আড্ডা বন্ধ করে বাড়ি বসে থাকার যে নতুন জীবন, তার সঙ্গে আগামী কয়েকটা দিন মানিয়ে নিন। বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলি পারছে না বলে, ভারত একাবারেই পারবে না, এই ধারণাটা ঠিক নয়। বস্তুত, লকডাউনের আগেই, জনতা কার্ফুর পরদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছিল, এই রোগ-কে ঠেকাতে পারলে, ভারতই পারবে।    

রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর বলেছেন, লকজাউনের মধ্য়েও মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন, এই প্রবণতা ঠিক নয়। বাইরের দেশগুলির অবস্থা ইটিমধ্যেই বিপন্ন। ভারতীয়দের যাতে সেই পরিস্থিতিতে না পড়তে হয়, তার জন্য বারবার করে সতর্ক করেছেন তিনি। এর আগে লকডাউন কেন জরুরী, এবং লকডাউনে ভারতে কীভাবে করোনার পপ্রকোপ কমছে, তা ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি। শুধু সতর্ক করাই লকডাউনে বেঙ্গালুরু ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে অভাবীদের মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছেন রাজীব চন্দ্রশেখর।