কোভিড আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাআক্রান্তকে দেওয়া হল না জল, অক্সিজেনযৌন হেনস্থার শিকার হতে হল স্ত্রী-কেচূড়ান্ত অব্যবস্থা করোনা-ধ্বস্ত বিহারে

স্বামী কোভিড আক্রান্ত। তাঁর চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার তাঁর স্ত্রী। চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগ। হাসপাতালের শয্যার চাদর নোংরা, ডাক্তাররা কোনও সময় দিতে রাজি নন। আর হাসপাতালের কর্মীদের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। অধিকাংশই সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি, আর এক জন তো এই অবস্থায় সুযোগ নিয়ে ওই মহিলার যৌন হেনস্থা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বিহারের ভাগলপুর ও পাটনার তিন-তিনটি হাসপাতাল ঘুরে, স্বামীকে বাঁচাতে না পারার পর, সব চেপে রাখা কথা এক ১২ মিনিটের ভিডিওয় প্রকাশ করেছেন ওই মহিলা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা আদতে নয়ডার বাসিন্দা। দোল উপলক্ষ্য়ে পারিবারিক জমায়েতে যোগ দিতে এসেছিলেন ভাগলপুর। আর তারপরই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাঁর স্বামী। দুবার করোনা পরীক্ষা করিয়েও ধরা না পড়ায়, নয়ডার এক ডাক্তারের পরামর্শে তাঁর বুকের সিটি স্ক্যান করানো হয়। তাতেই ধরা পড়ে ফুসফুসের প্রায় ৬০ শতাংশ সংক্রমিত। এরপরই, স্বামীকে ভাগলপুরের গ্লোকাল হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন তিনি। তাঁর মা-ও করোনা নিয়ে একই হাসপাতালে ভর্তি হন।

Scroll to load tweet…

মা অপেক্ষাকৃত ভাল থাকলেও, মহিলার স্বামীর অবস্থা ভাল ছিল না। কিন্তু, তাও চিকিৎসকরা মাত্র কয়েক মিনিট দেখেই চলে যেতেন বলে অভিযোগ। অ্যাটেনডেন্ট তো দেখাই মিলত না, তাঁরা ওই ভদ্রলোককে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও দিত না। এমনকী কথা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি ইশারায় জল চাইলেও দেওয়া হয়নি। জ্যোতি কুমার নামে এক অ্যাটেনডেন্ট সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল বটে, কিন্তু, তার উদ্দেশ্য ছিল অন্য।

বিছানার চাদর পাল্টে, পরিষ্কার চাদর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে। কিন্তু, এরপরই পিছন থেকে ওই মহিলার পরণের দোপাট্টা ধরে টান মেরেছিল সে। মহিলা ফিরে তাকিয়ে দেখেছিলেন তার মুখে একটা কুরুচিকর হাসি, এমনকী মহিলার কোমরেও হাত রেখেছিল সে। এরপর দোপাট্টা ছিনিয়ে নিয়ে ওই মহিলা চলে এলেও, হালপাতালে ভর্তি থাকা স্বামী ও মায়ের ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কায়, একটি কথাও বলতে পারেননি।

এরপর, অসুস্থ স্বামীকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন মায়াগঞ্জের ভাগলপুর সরকারি হাসপাতাল ও পাটনার রাজেশ্বর হাসপাতালে। এই দুই জায়গাতেও কোনও সুখকর অভিজ্ঞতা হয়নি তাঁর। মহিলা অভিযোগ করেছেন, মায়াগঞ্জের হাসপাতালে নাইট শিফ্টে থাকা ডাক্তারদের বারবার করে অনুরোধ করার পরও, তাঁর স্বামীকে একবারও দেখতে যাননি তাঁরা। ওই ভদ্রলোকের অক্সিজেনের ঘনত্বের মাত্রা হুহু করে কমতে থাকলেও তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। পাটনার হাসপাতালেও একই ঘটনা ঘটে। সেখানে তিনি কালোবাজারে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু এত করেও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি।

কোভিজের দ্বিতীয় তরঙ্গে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির অন্যতম বিহার। রাজ্যে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ১ লক্ষের বেশি। এর মধ্য়ে এই মহিলার অভিজ্ঞতা রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবার বেহাল দশাটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

YouTube video player