ভারতে লকডাউন করে করোনার সংক্রমণ রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু, তাতে যে এখনও পর্যন্ত বিশেষ কাজ হয়েছে, তা বলা যাবে না। বিশেষজ্ঢরা বলছেন, লকডাউনের সময়সীমা বাড়ালেই শুধু হবে না, সেইসঙ্গে বাড়াতে হবে, কোভিড-১৯ পরীক্ষার পরিমাণ। কিন্তু, এ তো গেল প্রতিরোধের কথা। কিন্তু, আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ করার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নতুন এক আশার আলো, 'প্লাজমা থেরাপি'। কী এই প্লাজমা থেরাপি, কীভাবে কাজ করে এই চিকিৎসা পদ্ধতি, এদিন দিল্লি এইমসের ডাক্তার রণদীপ গুলেরিয়া বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ।

প্লাজমা থেরাপি কী, তা জানার আগে, বলে নেওয়া যাক, ইতিমধ্যেই কিন্তু, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি সফল হয়েছে। ভারতে নয়, চিনে ব্রিটেনে এবং আমেরিকায়। চিনেরল ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের ৭২ ঘন্টা পর থেকেই রোগীদের শরীর থেকে ককোভিড-১৯ রোগের লক্ষণগুলি মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে এবং দ্রুতই সেই রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে। ব্রিটেন এবং আমেরিকা-তেও সুস্থ হয়ে ওঠা করোনার রোগীদের রক্ত ​​দিয়ে এই চিকিৎসার উৎসাহিত হওয়ার মতো ফল মিলছে।

হ্যাঁ, এই প্লাজমা পদ্ধতিতে আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে তা সেই মুহূর্তে ভাইরাস-এর সঙ্গে লড়তে থাকা রোগীর রক্তে মিশিয়ে দেওয়া হয়। শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলেই তার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য রক্তের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। অ্যান্টিবডি যার দেহ যত বেশি তৈরি করতে পারে, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তত বেশি হয়, তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এমন কোনও সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর প্লাজমায় উপস্থিত অ্যান্টিবডিগুলি আক্রান্ত রোগীদের দেহে ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে শুরু করে। ইতিমধ্যেই সে একবার সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর দেহে এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করেছে। তাই এইক্ষেত্রে চেনা শত্রুর বিরুদ্ধে সহজেই সে জিতে যায়।

এই প্লাজমা থেরাপি কিন্তু, নতুন কিছু নয়। ১৯১৮ সালে প্রায় করোনার মতোই মারাত্মক স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর সময়, এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল। তাারপর থেকে পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য এই থেরাপি সফলভাবে ব্যববহার করা হয়েছে।

রোজ রাত আটটা বাজলেই দেশজুড়ে সবাই করছে ঘেউ ঘেউ, করোনাতঙ্কের আমেরিকায় হচ্ছেটা কী, দেখুন

 

করোনা-লড়াইয়ে দারুণ স্বস্তি, ভারতের গোলাবারুদ প্রস্তুতকারকরাই তৈরি করলেন অভিনব অস্ত্র

 

লকডাউনে আরও নির্মম অনাহার-চিত্র, যোগী-রাজ্যে পাঁচ সন্তানকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলেন মা

করোনাভাইরাস-এর বিরুদ্ধেও এটি জীবন রক্ষাকারী হিসাবে প্রমাণিত হচ্ছে। ভারতের অনেক জায়গাতেই এই পদ্ধতি করোনাভাইরাস-এর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হতে পারে তার পরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার রণদীপ গুলেরিয়া । তবে বিষয়টি এখনও ল্যাব টেস্টের স্তরে। সেখানে সফল হলে, তারপর ক্লিনিকাল টেস্ট। সেই দরদা পার হতে পারলে তবে ভারতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু করা হবে। এখনও অবধি যা খবর, অত্যন্ত সীমিত আকারে পরীক্ষা হলেও, এখনও এর কোনও গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত ৩৯ বছরের মার্কিন মহিলা টিফনি সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গত সপ্তাহেই তিনি প্রথম আমেরিকান হিসাবে তাঁর রক্ত দিয়েছেন গবেষণার জন্য। তাঁকে নিয়েই এখন বাঁচার আশা দেখছে মার্কিনিরা। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন যে এই পদ্ধতি নিয়ে আরও অনেকটাই গবেষণা বাকি রয়েছে। এর প্রভাব সম্পর্কে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।