Asianet News Bangla

এ পথে চলতে পারে না গাড়ি, তাই ৬টি অটো-অ্যাম্বুল্যান্স তৈরি করলেন এই মহিলা ক্যাফে-মালিক

করোনা অতিমারির সময়ে ওষুধের কালোবাজারি, টিকাকরণ নিয়ে দুর্নীতির মতো অমানবিক ঘটনার পাশাপাশি, পরিচয় মিলেছে সত্যিকারের কিছু মানুষের। এমনই একজন তামিলনাড়ুর এক সামান্য ক্যাফে মালিক রাধিকা শাস্ত্রী।

Tamil Nadu woman crowdfunds money and build auto ambulances for hill areas ALB
Author
Kolkata, First Published Jul 10, 2021, 3:31 PM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে চলছে করোনাভাইরাস অতিমারি। এই সংকটের সময় একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় ওষুধের কালোবাজারি, টিকাকরণ নিয়ে দুর্নীতির মতো অমানবিক ঘটনা ঘটে চলেছে, আবার তেমনই অন্যদিকে এই সময়ে পরিচয় মিলেছে এমন কিছু মানুষের, যাঁরা সত্যিকারের মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এমনই একজন মানুষ রাধিকা শাস্ত্রী।

করোনা মহামারির দ্বিতীয় তরঙ্গ ভারতের চিকিৎসা পরিষেবাকে বেআব্রু করে দিয়েছে। ওষুধ থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত সমস্ত কিছুর অভাব দেখা দিয়েছে। শহরাঞ্চলে চাহিদা-প্রাপ্যতার ঘাটতিগুলি দ্রুত মিটিয়ে ফেলা গেলেও, প্রান্তিক অঞ্চলের অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। কোথাও কোথাও অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে সঠিক সময়ে রোগীকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া যায়নি। এমনই একটি এলাকা তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার উপজাতি অধ্যুষিত কুনুর অঞ্চল। একেই পার্বত্য অঞ্চল, তার উপর এখানকার রাস্তাঘাট এত সরু যে যানবাহন চলাচল করাটা বেশ সমস্যার।

এই কুনুরেই ক্যাফে ডাইম নামে একটি ক্যাফে চালান রাধিকা শাস্ত্রী। আদিবাসী গ্রামগুলির এই সমস্যা দেখে, এই বিষয়ে কিছু একটা করবেন বলে ভেবেছিলেন তিনি। হঠাৎ একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখে পড়েছিল, মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে প্রায় একই ধরণের পার্বত্য অঞ্চলে অটোরিক্সাকে অ্যাম্বুলেন্সে পপরিণত করে রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপরই তিনি সেই অটো-অ্যাম্বুল্যান্সগুলির নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁরা নীলগিরি এলাকার জন্যও সেইরকম কাস্টমাইজড অটো-অ্যাম্বুলেন্সও তৈরি করে দিতে সম্মত হয়।

আরও পড়ুন - উদ্ধার ৪৯টি দগ্ধ দেহ, আগুন এড়াতে মরণঝাঁপ ৩ জনের, বেশিরভাগই শিশু - চরম বিপর্যয় বাংলাদেশে

আরও পড়ুন - অলিম্পিকে দর্শক শূন্য টোকিও, করোনা আতঙ্কে জারি জরুরি অবস্থা

আরও পড়ুন - বাংলাদেশেই তৈরি হবে চিনের টিকা - ভারতই দেখালো পথ, ঢাকাও কি হবে ইসলামাবাদ

পরের সমস্যা ছিল অর্থের। একেকটি অটোর দামই সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার মতো। তার উপর সেগুলিকে অ্য়াম্বুল্যান্সে পরিণত করার খরচ রয়েছে। এইক্ষেত্রে রাধিকা সাহায্য নেন সোশ্যাল মিডিয়ার। সেখানে তিনি ক্রাইড-ফান্ডিং করেন, অর্থাৎ জনগণের থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। একমাসের মধ্যে তৈরি হয়ে নীলগিরিতে পৌঁছে গিয়েছে ৬টি অটো-অ্যাম্বুল্যান্স। ব্যবহার করা হয়েছে ৪৭০ সিসির বাজাজ ম্যাক্সিমা অটো। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ২১ লক্ষ টাকা।

অ্যাম্বুআরএক্স নামে পরিচিত, এই অটো-অ্যাম্বুলেন্সগুলি পার্বত্য রাস্তায় যানবাহনের চলাচলে গতি বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অটো-অ্যাম্বুলেন্সগুলিতে ড্রাইভারের কেবিনটি একটি সামনের দিকে আলাদা ভাবে লাগানো রয়েছে। এর মধ্যে রোগী বহনের জন্য একটি স্ট্রেচার, অ্যাটেনডেন্টের আসন, একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ড্রিপ হুক, একটি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, একটি ফার্স্ট এইড বক্স এবং একটি ফ্যান লাগানো রয়েছে।

সম্প্রতি তামিলনাড়ুর বনমন্ত্রী কে রামচন্দ্রন এবং নীলগিরি জেলার কালেক্টর জে ইনোসেন্ট দিব্যা এই অটো-অ্য়াম্বুল্যান্সগুলির উদ্বোধন করেছেন। এগুলিকে কেটি, কুনুর এবং কোটাগিরি অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং এনজিওগুলিতে মোতায়েন করা হচ্ছে। আর এই অটো-অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী পরিবহণ করা যাবে নিখরচাতেই।

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios