ভোট চলছে রাজ্যে। ফলে সর্বত্র সকলেই ব্যস্ত রাজনীতি নিয়ে আলোচনায়। পিছনে চলে গিয়েছে করোনা নিয়ে ভয়। শনিবার, সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে গেল রাজ্যের দৈনিক নতুন করোনা সংক্রমণের সংখ্য়া। একদিকে যেমন, বাড়ছে চিকিৎসাধীন রোগীর চাপ, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুরিয়ে আসছে করোনার টিকাও। সব মিলিয়ে 'খেলা হবে'র ভোটের ময়দানে, আসল খেলা দেখিয়ে চলেছে করোনাই।

করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গে, ভারতের সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণ ক্রমে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গেও করোনা। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, শনিবার রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪,০৪৩ জন। আর এই সময়কালে করোনার জন্য মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। গত ২৪ ঘন্টায়, অ্যাক্টিভ অর্থাৎ চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর চাপ বেড়েছে ২,৭৬৩। এই মুহূর্তে রাজ্যের মোট চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর সংখ্যা ২১,৩৬৬ জন।

আর এর সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ফুরিয়ে এসেছে করোনার টিকার মজুতও। শুক্রবার থেকেই টিকার অভাবে, রাজ্য়ের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে করোনা টিকাকরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এদিন সেই তালিকা  আরও দীর্ঘ হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের কাছে টিকা চেয়ে পাচ্ছে না কোনও হাসপাতাল। শুক্রবারই স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছিল, রাজ্যে আর যা টিকা পড়ে রয়েছে, তাতে টেনেটুনে দু-তিনদিন টিকা দেওয়া যেতে পারে। এদিন, রাজ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৯৪ লক্ষ ডোজ  টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর পড়ে রয়েছে ৪ লক্ষ ডোজের মতো। তাতে বড় জোর একদিন টিকা দেওয়া যাবে, কারণ রাজ্যে গড়ে একেকদিনে ৪ লক্ষ ডোজ টিকাই লাগে।

জানা গিয়েছে, গত শুক্রবারই কেন্দ্র থেকে রাজ্যে নতুন টিকার ডোজ আসার কথা ছিল। কিন্তু, সেই রসদ এসে পৌঁছায়নি। কবে আসবে সেই সম্পর্কেও কেন্দ্র থেকে কিছু জানানো হয়নি। রাজ্য় স্বাস্থ দফতরের কর্তারা বলছেন, এই বিষয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অস্পষ্টতা রয়েছে। একদিকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, যথেষ্ট পরিমাণে চিকা রয়েছে দেশের হাতে। অন্যদিকে রাজ্যগুলিতে সেই টিকা পাঠানো হচ্ছে না। প্রসঙ্গত, শুক্রবার মহারাষ্ট্রও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে টিকা না পাঠানোর অভিযোগ করেছিল।  

রাজ্যে করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবথেকে কারাপ অবস্থা কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণা জেলাতেই। শনিবার এই দুই জেলায় নতুন করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে যথাক্রমে ৯৯৭ ও ৮৮৭টি। গত ১২ দিনে রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে ছয় গুণের বেশি।