রবি ঠাকুরের মতে,  ছোট গল্প এমন হবে যা 'শেষ হইয়াও হইল না শেষ'। চিনের পরিস্থিতিও অনেকটা এখন তেমনই বলা যায়। গত ডিসেম্বর থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে স্বাভাবিক জনজীবন একেবারে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে যায় গোটা দেশের। তবে করোনার বিরুদ্ধে তিন মাসের লড়াই শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে চিনের মূল ভূখণ্ড। শোনা যাচ্ছে করোনার এপিসেন্টার উহান শহরও আগামী ৮ এপ্রিল থেকে পুরোদস্তুর খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে এর মাঝেই ছন্দপতন। ফের নতুন করে সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে চিনে।

কয়েকদিন ধরেই চিনে ধীরে ধীরে কমে আসছিল স্থানীয় সংক্রমণ। হুবেই সহ চিনের বিভিন্ন প্রদেশে গত ৩ দিনে নতুন করে সংক্রমণের খবরও মেলেনি। কিন্তু ছন্দ পতন হল শুক্রবার। চিনা স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ৫৪ জনের শরীরে সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে আক্রান্তরা সকলেই বিদেশ থেকে এসেছেন বলে দাবি করছে চিনা প্রশাসন। স্থানীয় সংক্রমণের খবর নেই বলেই জানাচ্ছেন তারা। এই অবস্থায় বিদেশ থেকে আসা সংক্রমণ ঠেকাতে চিনে বিদেশিদের প্রবেশে ফের নিষেধাজ্ঞা বসাল শি জিনপিং-এর সরকার। 

ট্রাম্পের দেশে করোনা সংক্রমণের ঘটনা লক্ষাধিক, ম্যালেরিয়ার ওষুধেই হচ্ছে চিকিৎসা

নিজের পুরনো রেকর্ড ফের ভাঙল ইতালি, একদিনে মৃতের সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলল হাজার

পথে নামল করোনা, সচেতনতা বাড়াতে নিজেই ভাইরাস সাজলেন পুলিশকর্তা, নিমেশে হলেন ভাইরাল

আপাতত স্থির হয়েছে, বিদেশি পর্যটকেরা চিনে ঢুকতে পারবেন না। বৈধ ভিসা বা ‘রেসিডেন্স পাস’ থাকলেও মিলবে না । কমছে আন্তর্জাতিক উড়ানও। উড়ানে কিছু নিষেধাজ্ঞা অবশ্য আগেও ছিল। সম্প্রতি নিয়ম কিছুটা শিথিল হলেও নতুন সংক্রমণের খবর আসার পর থেকেই  ফের কড়া হয়েছে  চিন। তবে বিদেশে থাকা চিনা নাগরিকদের  দেশে ঢুকতে কোনও বাধা নেই। এক্ষেত্র,  যে সব উড়ানের ৭৫ শতাংশ আসন ভরছে, সেগুলিই শুধু চিনের মাটি ছোঁয়ার অনুমতি পাচ্ছে। ছাড় দেওয়া হয়েছে কূটনীতিকদেরও। প্রবেশে বাধা নেই উড়ান সংস্থার কেবিন ক্রুদেরও। কত দিন এই কড়াকড়ি থাকবে তা অবশ্য  স্পষ্ট করেনি চিনা বিদেশ মন্ত্রক। 

চিনের স্বাস্থ্য কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত দেশটিতে করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৮১,৩৯৪। এদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছে ৭৫ হাজার মানুষ। কোভিড ১৯ রোগে মৃত্যু হয়েছে ৩,২৯৫ জনের। 

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াতেও চিনের মত নতুন করে সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৬ জন। যার ফলে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯,৪৭৮। শুক্রবার করোনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। ফলে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪৪।