করোনা ভাইরাস গোটা দুনিয়ায় মহামারীর আকার নিয়েছে। ইতিমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়ে গেছে ৪ কোটি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৫ হাজারকে। বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে মারণ করোনার সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। ত্রাহি ত্রাহি রব আমেরিকা, ব্রিটেন, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি সহ পশ্চিমের একাধিক উন্নত দেশের। কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে বাদ যায়নি রাশিয়াও। দেশটিতে সংক্রমণ আটকাতে তাই লকডাউন ঘোষণা করেছে সেদেশের সরকার। আর এই লকডাউনকে সফল করতে এক অভিনব উপায় নিয়েছেন নাকি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মানুষ যাতে বাড়ি থেকে না বের হয় তা সুনিশ্চিত করতে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরের রাজপথে ৮০০টি ক্ষুধার্ত বাঘ ও সিংহকে নাকি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও। 

 

 

করোনা ভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমণ এড়াতে মানুষ যাতে বাইরে বেরোতে না পাড়ে সেজন্য  একাধিক দেশ লকডাউন  করছে। রাশিয়াও সেই পথেই হেঁটেছে। তবে সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে অনেকেই সেদেশে পথে নামার চেষ্টা করেছিলেন। আর তা আটকাতেই নাকি এই উপায় অবলম্বনি করেছেন প্রিসেডেন্ট পুতিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মত ছড়িয়েছে এই ম্যাসেজ।  সবাই এই পোস্ট শেয়ার করে ভাইরাল করে দেয়। ট্যুইটারে একজন এই ছবি শেয়ার করে লেখেন, পুতিন রাশিয়ার মানুষকে দুটি বিকল্প দিয়েছে। হয় দুই সপ্তাহের জন্য ঘরে থাক, নাহলে পাঁচ বছরের জন্য জেলে। এর মাঝে কোন রাস্তা নেই। মানুষ যাতে বাড়ি থেকে বের না হয়, এর জন্য ৮০০ বাঘ আর সিংহ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

তবে রাস্তায় বাঘ-সিংহ ছেড়েও করোনা থেকে রেহাই পায়নি পুতিনের দেশ। রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত ৪৩৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে খবর পাওয়া গেছে। মৃত্যুও হয়েছে একজনের। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। 

করোনা আক্রান্তদের জন্য আলাদা হাসপাতাল, ২ সপ্তাহে তৈরী করলেন মুকেশ অম্বানি

১২৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম, অবশেষে করোনা আতঙ্কে স্থগতি হল টোকিও অলিম্পিক

ম্যালেরিয়ার ওষুধে ৬ দিনেই করোনা নিরাময়, এখনও ধন্দে গবেষকরা

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব খবর এবং ছবি ভাইরাল হওয়ার ক'দিন পরেই জানা গেছে আসল তথ্য। এই সব খবরই যে আসলে ভুয়া সে কথা প্রকাশ্যে এসেছে। তার পাশাপাশি জানা গেছে ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও একটি রাস্তায় এই সিংহটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল। তখনই তোলা হয়েছিল ছবিটি। নেট দুনিয়ায় পুরনো ছবি ভাইরাল বা ট্রেন্ডিং হওয়া নতুন ব্যাপার নয়। কিন্তু তা বলে এমন ভুয় খবর! আসল তথ্য সামনে আসতেই রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।