এতদিন শোনা যাচ্ছিল করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বিতীয়বার এই মারণ ভাইরাসের কবলে পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে সেই তত্ত্বকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত করে দিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায় কোভিড ১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ৯১ জন রোগী। তাঁদের শরীরে ভাইরাসটির নতুন করে সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে  কোরিয়ার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। 

কেসিডিসি'র  ডিরেক্টর জেয়ং ইউন কেয়ং জানিয়েছেন, করোনা সারিয়ে ওঠা ওই ৯১ জন রোগীর পুনরায় টেস্ট করালে ভাইরাসটি পজিটিভি পাওয়া গিয়েছে। তবে এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা এখনও স্পষ্ট নয় বলেই জানাচ্ছেন কেয়ং। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে বলে জানান তিনি। তবে কেয়ং আশঙ্কা করছেন, রোগীরা হয়তো নতুন করে সংক্রমণের শিকার হননি। বরং তাঁদের দেগে থাকা ভাইরাসগুলি পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।

সাধারণত বিশষেজ্ঞরা বলে থাকেন, কোনও ভাইরাস শরীরে দ্বিতীয় বার বাসা বাঁধতে পারে না। কারণ, শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। আর সেই কারণেই ওই অ্যান্টবজি দ্বিতীয়বার ভাইরাসটিকে শরীরের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয় না। সেই তত্ত্বকে কাজে লাগিয়েই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের শীরর থেকে অ্যান্টবডি নিয়ে এই মারণ ভাইরাসের মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন গবেষণকার। তার মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে সংক্রমণের ঘটনা ছন্দপতন ঘটিয়েছে।

করোনাভাইরাসকে চ্যালেঞ্জ দিতে জাগছে ইবোলা, কঙ্গোতে নতুন করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ

আমেরিকায় একদিনে করোনা প্রাণ কাড়ল ২,০০০ বেশি, মৃত্যু মিছিলে এক নম্বরের পথে ট্রাম্পের দেশ

করোনায় জেরবার বিশ্বে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ, এবার উত্তর মেরুর ওজন স্তরে দেখা দিল ছিদ্র

এমনিতেই  এই ভাইরাস প্রতিটি মুহুর্তে নিজেকে পরিবর্তন করে চলেছে। তার মধ্যে ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এর সম্পর্কে কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই গবেষকদের। সেই কারণেই এর মতিগতি একেবারেই বুঝে উঠতে পারছেন না চিকিৎসকরা। দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা আক্রান্ত ওই রোগীদের কয়েক বার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেই তাঁদের  বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, দ্বিতীয়বার কী করে তাঁরা আক্রান্ত হলেন, সেই উত্তর হাতড়াচ্ছেন কোরিয়ান বিশেষজ্ঞরা।

কোরিয়ান বিশেষজ্ঞরা আরও যেটা লক্ষ করছেন, একদিন রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও, পরদিন সেই ব্যক্তিরই রিপোর্ট আবার পজিটিভ আসছে। এ বিষয়েও সকলের সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করে দক্ষিণ কোরিয়া। কোরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের  এক বিশেষজ্ঞ কিম উ ঝো'র আশঙ্কা, ৯১ সংখ্যাটা সবে শুরু। আগামী দিনে এমন রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। তাঁর মতে, এইসব রোগীরা নতুন করে সংক্রমণের শইকার হননি। বরং তাঁদের দেহে থাকা করোনা ভাইরাসগুলি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞই আশঙ্কা করছেন, হয়তো করোনা পরীক্ষার সময় কোনও ভুল হয়েছিল, তাই রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। 

চিনের পর দক্ষিণ কোরিয়াতেই প্রথম করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। কিন্তু বিশ্বের যে ক'টি দেশ করোনার মোকাবিলায় সফল, তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু সামাজিক দূরত্বের কাড়া নীতি নিয়ে ও প্রচুর মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেশে করোনাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে দক্ষিণ কোরিয়া প্রশাসন।  তাদের তৈরি করোনা কিটের চাহিদাও রয়েছে বিশ্বজুড়ে। ভারতও এখান থেকে করোনা কিট আমদানি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এখনও  পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৪৫০। সবমিলিয়ে ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠেছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ।