করোনাভাইরাসের করাল গ্রাসে বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশ। মারণ ভাইরাসের থেকে সভ্যতারে লক্ষা করতে একাধিক আধুনিক পশ্চিমী দেশে লকডাউন চলছে। গোষ্ঠী সংক্রমণ এড়াতে বন্ধ রয়েছে অফিস-কাছারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা সবকিছুই। যার অবশ্যম্ভাবী ফল পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। করোনাভাইরাসের ফলে বিশ্বে এক ভয়ানক মন্দা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে চলেছে বলে আশঙ্ক করছেন অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ। বিশ্বব্যাঙ্কও নিজেদের সমীক্ষায় সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থাতেও তৃতীয় বিশ্বের দেশ ভারতের উপরেই ভরসা রাখছে রাষ্ট্রসংঘ।

সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট নিজেদের রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতে দাবি করা হয়েছে করোনা সংক্রমণের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষতি হবে হাজার হাজার কোটি ডলার। তবে এই বিরাট ধাক্কা থেকে বাদ পড়তে পারে চিনের পাশাপাশি ভারতের অর্থনীতিও। সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, মন্দার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনীতিতে। সব মিলিয়ে ক্ষতি হতে পারে প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার। এদিকে বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ বাস করেন উন্নয়নশীল দেশগুলিতে। রাষ্ট্রসংঘের হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের পুনরুজ্জীবিত করতে অন্তত আড়াই লক্ষ কোটি মার্কিন জলারের ত্রাণ প্যাকেজ প্রয়োজন হবে। 

দিল্লির আকাশে আরও ঘন হল আশঙ্কার মেঘ, এবার আক্রান্ত মহল্লা ক্লিনিকের আরও এক চিকিৎসক

এবার সেঞ্চুরির পথে মুম্বই, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেতনে কাটছাঁট একাধিক রাজ্যের

করোনার ভয়ে বাড়িতে থাকলে খোয়াতে হবে চাকরি, নিদান দিলেন ব্রাজিলের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট

 

রাষ্ট্রপুঞ্জের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দফতর থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন উন্নত দেশ এবং চিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বিরাট প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার। একটা অভুতপূর্ব সংকটের মোকাবিলায় যে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে তাও অভুতপূর্ব। তাতে অর্থনীতির ক্ষতিপূরণ হবে। মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে।

‘দ্য কোভিড-১৯ শক টু ডেভলপিং কান্ট্রিজ’ নামে রাষ্ট্রসংঘের  রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ মানুষের বাস  উন্নয়নশীল দেশগুলিতে আর্থিক মন্দার প্রভাব সব চেয়ে বেশি পড়বে। চলতি বছর লাখ লাখ কোটি ডলারের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা। যা চিন ও ভারত বাদে উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে মারাত্মক হবে। যদিও কীসের ভিত্তিতে তারা বলছে ভারত রেহাই পেতে পারে, তা জানানো হয়নি।

গত সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের প্রধান  ক্রিস্টালিনা জিওর্জিয়েভাও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রভাব নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে, উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ব্যাপক সাহায্য করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন ক্রিস্টালিনা। তারঁ  ধারণা, ২০০৯ সালে বিশ্ব জুড়ে যে মন্দা দেখা দিয়েছিল, এবারের মন্দা তার চেয়েও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে।