পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে এগোচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় দিল্লিতে নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রায় ৫০টি খবর পাওয়া গিয়েছে। যার ফলে রাজধানীতে কোভিড ১৯ রোগীর সংখ্যা সেঞ্চুরি করে ফেলেছে। সোমবার বিকেল থেকেই দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় ধর্মীয় সমাবেশ থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় আশঙ্কায় উদ্বেল ছিল রাজধানী। মঙ্গলবার সকালেই জানা যায় এই এলাকার ২৪ জনের শরীরে মিলেছে মারণ ভাইরাস। করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন ৩০০ জন। এরমধ্যেই আরও এক আশঙ্কার খবর ভেসে এল দিল্লির বাতাসে। এবার কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হলেন রাজধানীর মহল্লা ক্লিনিকের আরও এক চিকিৎসক।

 

 

গত সপ্তাহেই উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের এক চিকিৎসক এবং তাংর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তারপরেই ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা ৯০০ জন মানুষকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে পাঠান হয়। এবার মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাধের মহল্লা ক্নিনিকের আরও এক চিকিৎসক আক্রান্ত হলেন এই মারণ ভাইরাসে। তবে আক্রান্ত চিকিৎসক বাইরে গিয়েছিলেন না কারও সংস্পর্শে এসেছিলেন সেই বিষয়টি এখনও জানা যায়নি। 

এবারও করোনা থাবা বসিয়েছে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতেই। মৌজপুর থেকে এক কিলোমিটার দূরে বাবরপুর এলাকার মহল্লা ক্লিনিকের চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন কোভিড ১৯ রোগে। এর পরেই ১২ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে যেসব ব্যক্তি এসেছিলেন তাঁদের ১৫ দিনের জন্য বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। 

জানা যাচ্ছে, মৌজপুর এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়েছিল  সৌদি আরব থেকে আসা এক মহিলার থেকে। ৩৮ বছরের ওই মহিলা গত ১২ মার্চ মহল্লা ক্লিনিকে চিকিৎসকের কাছে যান। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, এই ঘটনার ৫ দিন পর মহিলার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। সেইদিনই হাসপাতালে ভর্তি হন মৌজপুর মহল্লা ক্লিনিকের চিকিৎসক। 

এবার সেঞ্চুরির পথে মুম্বই, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেতনে কাটছাঁট একাধিক রাজ্যের

নিজামুদ্দিনে ২৪ জনের শরীরে মিলল মারণ ভাইরাস, ব্যর্থতার তিরে বিদ্ধ কেজরি

করোনার ভয়ে বাড়িতে থাকলে খোয়াতে হবে চাকরি, নিদান দিলেন ব্রাজিলের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট

এদিকে সৌদি ফেরত ওই আক্রান্ত মহিলার সংস্পর্শে আসায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তাঁর ৫ আত্মীয়ও। তার মধ্যে রয়েছে মহিলার মা, ভাই, দুই কন্যা এবং তাঁকে দিল্লি বিমানবন্দরে আনতে যাওয়া এক আত্মীয়। পরিস্থিতি গুরুতর গয়ে ওঠার আশঙ্কায় এর পরেই ওই মহিলার প্রতিবেশীদেরও পর্যবেক্ষণে রাখছে দিল্লি সরকার। 

গত সপ্তাহেই গরিব মানুষের কথা ভেবে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলি খুলে রাখার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে মহল্লা ক্লিনিকের আরও এক চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায়, পরিস্থিতির জেরে এবার ক্লিনিকগুলিতে নোটিশ ঝুলিয়েছে আপ সরকার। 

এদিকে হরিয়ানার পঞ্চকুলায় এবার করোনা আক্রান্ত হলেন এক নার্স। তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।