চিন এবং হংকং-এ কোভিড কেসের নতুন প্রাদুর্ভাব ভারতে সম্ভাব্য চতুর্থ তরঙ্গের বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একদিনে চিনের নতুন করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। 

১৬ মার্চ অর্থাৎ বুধবার ১২-১৪ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে করোনার বুস্টার ডোজও। তবে তাতে আতঙ্ক থামার নয়। কারণ চিন এবং হংকং-এ কোভিড কেসের নতুন প্রাদুর্ভাব ভারতে সম্ভাব্য চতুর্থ তরঙ্গের বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একদিনে চিনের নতুন করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চিনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (China’s National Health Commission) জানিয়েছে যে গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩,৫০৭জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত (3,507 new locally spread cases) হয়েছেন। 'স্টিলথ ওমিক্রন' (stealth omicron) নামে পরিচিত করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট বলা ভালো এখন চিনের জিরো-টলারেন্স কৌশল পরীক্ষা করছে। বেশিরভাগ সংক্রমণের খবর মিলছে উত্তর-পূর্ব চীনের জিলিন প্রদেশ থেকে। একদিনে সেখানে ২৬০১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বেজিং, সাংহাই এবং শেনজেনের প্রধান শহরগুলি সহ সারা দেশে ছোট ছোট প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে।

সারা দেশে প্রায় ১৩টি শহরকে সম্পূর্ণভাবে লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি শহর আংশিক লকডাউনের অধীনে রয়েছে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনে ক্রমবর্ধমান করোনা আক্রান্তের কারণে দেশের কঠোর 'জিরো কোভিড পলিসি' নতুন করে কাজে লাগাতে হচ্ছে। শিল্পনগরী সাংহাইয়ে আবারও আবাসিক এলাকা ও অফিস চত্বরে কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। শহরের স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভারতে কবে ছড়াতে পারে চতুর্থ তরঙ্গ

বর্তমানে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে দেশের জনজীবন। খুলতে শুরু করেছে স্কুল আর কলেজ। রেস্তোরাঁ থেকে মল সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে স্বাভাবিক ছন্দ। তবে হয়ত পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে ফের। চিনে করোনভাইরাস সংক্রমণের বৃদ্ধির রিপোর্ট করার সাথে সাথে, ভারতের কোভিড -১৯ ওয়ার্কিং গ্রুপের NTAGI-এর চেয়ারম্যান ডাঃ এন কে অরোরা বলেছেন যে ভারতীয়দের এই রোগটিকে খাটো করে দেখা উচিত নয়। কারণ করোনার নিত্য নতুন ভেরিয়েন্ট আসতেই থাকবে। 

গবেষকরা জানাচ্ছেন এই দেশে করোনাভাইরাস স্থানীয় একটি রোগে পরিণত হয়েছে। আক্রান্ত ও দৈনিক গড় বিশ্লেষণ করে এই দাবি করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায় এই সংখ্যা আগামী চার সপ্তাহ ধরে সামান্য ওঠানামা করবে। তবে তাতে ভয়ের কিছু নেই। আগামী চার সপ্তাহ এটি এই দেশে মহামারির পর্যায়ে থাকবে। এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত করোনা টিকা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে। প্রথম ডোজ পেয়েছে প্রায় ৯৬ কোটি মানুষ। বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে দেশের ১৯,৯৫৯, ৫৩২ জনকে। খুব তাড়াতাড়ি শিশুদেরও টিকা দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।