মঙ্গলবারের ভারত বাংলাদেশ ম্যাচের পর থেকেই চর্চায় তিনি। হুইলচেয়ারে বসে অশক্ত শরীরেও বিরাটদের উৎসাহিত করতে মাঠে এসেছিলেন। তাঁর এই প্রাণশক্তি দেখে মুগ্ধ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, হর্ষা ভোগলে থেকে বিরাট কোহলি। ম্যাচের পরে বিরাট তো তাঁর কাছে গিয়ে প্রণামও করে আসেন। 

ক্রিকেট নিয়ে ৮৭ বছরের সেই চারুলতা পটেলের উৎসাহ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন মহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মহিন্দ্রা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভারতের পরের ম্যাচগুলি চারুলতা দেখতে চাইলে টিকিটের পুরো দামটাই দিয়ে দিতে চান তিনি।

আরও পড়ুন- ক্যামেরা থেকে বিরাট-রোহিত, আকর্ষণের কেন্দ্রে এই বৃদ্ধা! দেখুন ভিডিও

সাধারণত ভারতের ম্যাচ থাকলে সাহস করে তা দেখতে বসেন না আনন্দ মহিন্দ্রা। তার জন্য অবশ্য কুসংস্কারই দায়ী। কারণ আনন্দ মহিন্দ্রা মনে করতেন, তিনি খেলা দেখলেই ভারত হারে। এই ভয় থেকে মঙ্গলবারও প্রথমে কোহলিদের ম্যাচ টিভিতে দেখছিলেন না এই শিল্পপতি। কিন্তু খেলা চলাকালীনই চারুলতা পটেলের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে আনন্দ মহিন্দ্রার নজরে পড়ে। হুইলচেয়ারে বসা চারুলতা পটেলের উৎসাহ দেখে টুইটও করেন আনন্দ মহিন্দ্রা। তিনি লেখেন, 'যথারীতি আজকেও আমি খেলা দেখছিলাম না। কিন্তু শুধুমাত্র এই ভদ্রমহিলাকে দেখার জন্যই এবার টিভি খুলে বসব আমি। ওনাকে দেখেই একজন ম্যাচ উইনার মনে হচ্ছে। বয়স শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র, সেটা এই ভদ্রমহিলাকে দেখেই বোঝা যায়।'

 

 

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ভারত বাংলাদেশকে হারানোর পরেই ফের টুইট করেন আনন্দ মহিন্দ্রা। সেখানে ভারতের জয়ের নেপথ্যে চারুলতা পটেলকেও কৃতিত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে চারুলতাই ভারতের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছেন। সেমি ফাইনাল এবং ফাইনালে প্রয়োজনে ফ্রি টিকিট দিয়েও যাতে চারুলতাকে মাঠে আনা হয়, সেই আবেদনও জানান আনন্দ মহিন্দ্রা। 

 

 

তাঁর পোস্ট করা টুইটেই পাল্টা জবাব দিয়ে এক টুইটার ব্যবহারকারী প্রস্তাব দেন, আনন্দ মহিন্দ্রারই উচিত ওই বৃদ্ধার ম্যাচ টিকিট স্পন্সর করা। এক কথায় সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান আনন্দ মহিন্দ্রা। তিনি আবেদন করেন, ওই বৃদ্ধার পরিচয় যেন তাঁকে জানানো হয়। ভারতের ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেই অবশ্য জানা যায়, গোটা ভারতীয় দল এবং সমর্থকদের মন জয় করা ওই বৃদ্ধার নাম চারুলতা পটেল। ম্যাচের পরে বিরাট কোহলিকে তাঁর আদর করার ছবি ইতিমধ্যেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। 

ওই বৃদ্ধার পরিচয় অনেকেই আনন্দ মহিন্দ্রাকেও জানিয়েছেন। ভারতের পরের ম্যাচে চারুলতা পটেলের মাঠে হাজির থাকা এবার তাই অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে।