পাকিস্তানের কাছে হারার পরে কি ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়াবে ইংল্যান্ড? নাকি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর হ্যাটট্রিক করতে পারবেন মুশফিকুর-শাকিবরা? কার্ডিফে বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে এই প্রশ্নগুলিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দু' দলের সমর্থকদের মনে। 

এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট ইংল্যান্ড শুরুটা প্রত্যাশিত ঢঙেই করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে। কিন্তু পাকিস্তানের ম্যাচে দ্বিতীয় ম্যাচেই ছন্দপতন হয় তাদের। আবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ম্যাচেই হারিয়ে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছিল, বিশ্ব ক্রিকেটে আর তাদের আন্ডারডগ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেও লড়াকু ক্রিকেটই উপহার দিয়েছেন টাইগাররা। 

শেষ তিনটি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে, সম্মুখ সমরে ইংল্যান্ডের থেকে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে শেষ তিনটি সাক্ষাতে পর পর দু' বার বাংলাদেশের কাছে হারতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে ১৫ রানে হেরে প্রথম রাউন্ডেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ইয়ন মর্গ্যানের দলকে। ঘরের মাঠে সেই হারের বদলা নেওয়ার পাশাপাশি জয়ে ফিরতেও মরিয়া থাকবে ইংল্যান্ড। সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে অবশ্যই ইংল্যান্ড অনেক এগিয়ে। ভারসাম্যের দিক থেকেও অন্যান্য দলগুলিকে পিছনে ফেলেছে তাঁরা। 

আগের ম্যাচেই পাকিস্তানি সমর্থকদের টিটকিরি হজম করতে না পেরে মাঠেই মেজাজ হারাতে দেখা গিয়েছিল বেশ কয়েকজন ইংরেজ ক্রিকেটারদের। জেসন রয় এবং জোফ্রে আর্চারকে মাঠের মধ্যে অখেলোয়াড়োচিত আচরণের জন্য জরিমানাও করা হয়। শনিবারের ম্যাচেও প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি দলকে সমর্থন করতে মাঠে আসবেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে দলের হয়ে গলা ফাটাবেন তাঁরা। তাই ফের একটি জমজমাট ম্যাচ দেখার জন্য তৈরি হচ্ছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। 

এই ম্যাচেও বাংলাদেশের ভরসা শাকিব আল হাসানের দুরন্ত ফর্ম। ব্যাটে- বলে প্রথম দুই ম্যাচেই নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছেন শাকিব। সঙ্গে মুশফিকুর, তামিম ইকবালরা তো রয়েইছেন। তবে ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের চিন্তা হতে পারে তাঁদের বোলিং আক্রমণ। বিশেষত দলের অন্যতম ভরসা মুস্তাফিজুর রহমান এখনও বিশ্বকাপে দাগ কাটতে ব্যর্থ। অন্যদিকে চোটের জন্য এই ম্যাচে স্পিনার আদিল রশিদকে বাইরে রেখেই নামতে হবে ইংল্যান্ডকে। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা জোফ্রে আর্চারের গতির মোকাবিলা কীভাবে করেন, সেদিকেও নজর থাকবে ক্রিকেট প্রেমীদের। 

কার্ডিফের যে মাঠে ইংল্যান্ডের মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ, সেই সোফিয়া গার্ডেন্সে অবশ্য তাদের সুখস্মৃতিই রয়েছে। ২০০৫-এ এই মাঠেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে একদিনের ম্যাচে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন টাইগাররা।