বিশ্বকাপ শুরু হতেই নানাপ্রকার বিতর্ক শুরু হয়েছে। ধোনির গ্লাভসে সেনার চিহ্ন থাকা না থাকা থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের ম্যাচগুলিতেই ৩০০ রানের পিচ থাকা - এরকম বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচকরা নিশানা করেছেন আইসিসি-কে। এবার ধারাভাষ্যকারদের মুখে লাগাম লাগানোর নির্দেশ দিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি করল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। জানা গিয়েছে ধারাভাষ্যকাররা কী বলবেন, আর কী বলবেন না - এই বিষয়ে সতর্ক করে একটি ইমেল করা হয়েছে আইসিসি-র সঙ্গে বিশ্বকাপের সময় ধারাভাষ্য করার জন্য চুক্তিবদ্ধ সকল ধারাভাষ্যকারদের।

গটনার সূত্রপাত গত ৬ জুন ট্রেন্ট ব্রিজে অস্ট্রেলিয়া বনাম ওয়েস্টইন্ডিজ ম্যাচে। ওই ম্যাচে খুব খারাপ ছিল আম্পায়ারিং-এর মান। ওই ম্যাচে মাঠের আম্পায়ার ছিলেন ক্রিস গাফানি ও রুচিরা পাল্লিয়াগর্গ। ওয়েস্টইন্ডিজ ব্য়াট করার সময় দুই বার ক্রিস গেইল ও দুইবার জেসন হোল্ডারকে ভুল আউট দেন আম্পায়াররা। চারবারই রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তাঁরা। কিন্তু, ক্রিস গেইল যে বলটিতে আউট হন, সেই বলটির আগের বলটিই নোবল ছিল। যা আম্পায়াররা দেননি। ফলে হিসেব মতো ফ্রি হিটের বলে আউট হন গেইল।

পরে এই নিয়ে আম্পায়ারদের প্রবল সমালোচনা হয়েছে। এমনকি ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার ব্রেথওয়েট আম্পারিং নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন। ওই ম্যাচে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন প্রাক্তন ক্যারিবিয়ান জোরে বোলার মাইকেল হোল্ডিং। ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি, ওই ম্যাচের আম্পায়ারিং-কে 'নৃশংস' বলেন।

অজি পেসারদের বারবার আবেদন করারও তিনি সমালোচনা করেন। তাঁর মতে ওই জোরালো আবেদনের সামনেই স্নায়ুর চাপে ভুগেছেন দুই আম্পায়ার। তিনি বলেন তাঁদের সময় আম্পায়াররা এত কড়া ছিলেন না। তাও একবারের বেশি তাঁদের আবেদন করা উপায় ছিল না। আর সেটাই হওয়া উচিত।

ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনেও অবশ্য অনেকটাই সুর নরম করেন তিনি। তবে সেখানেও ঘুরিয়ে আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও করেন। তিনি বলেন, আম্পায়াররা সম্ভবত সতভাবেই ভুলগুলি করেছেন, কিন্তু অদ্ভুতভাবে সবকটি ভুলই ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে গিয়েছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে বড়মুখ করে ২৪ জন ধারাভাষ্যকারের প্যানেল ঘোষণা করে। বিভিন্ন মহান প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে সুপরিচিত ধারাভাষ্যকাররা রয়েছেন সেই প্যানেলে। ভারত থেকে আছেন তিনজন - সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সঞ্জয় মঞ্জরেকর ও হর্ষ ভোগলে। এখন সেই প্যানেলের মহান ক্রিকেটাররাই ভুল ধরাতে গেলে তাঁদের মুখে আগল টানতে উদ্যত হল আইসিসি। তাই প্রশ্ন উঠছে এই এলিট ধারাভাষ্যকারদের সবাইকে কী নিজেদের পোষা বুলবুলি বানাতে চাইছে তারা?