বিশ্বকাপে তাঁর মন্থর খেলা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ভারতীয় ক্রিকেট মহল। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা অনেকেই সমালোচনা করছেন। আবার কেউ কেউ তাঁকে সমর্থনও করছেন। বর্তমান দলের সদস্যরা অবশ্য সবাই ধোনির সঙ্গেই আছেন। কিন্তু সত্যিই কি ধোনি এবার বুড়ো হলেন? ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের এক অভূতপূর্ব ঘটনা সেই প্রশ্ন তিলে দিল।

ইংল্যান্ড ইনিংসের ১১তম ওভার বল করছিলেন হার্দিক পণ্ডিয়া। তাঁর একটি লেগ স্টাম্পের উপর দেওয়া বাউন্সার জেসন রয়ের গ্লাভসের লেগে যায় ধোনির হাতে। আম্পায়ার আলিমদার তা ধরতে পারেননি। বরং ওয়াইড-এর ইশারা করেন।

আরও পড়ুন - চিন্নাস্বামী থেকে এজবাস্টন - যেভাবে হল তরুণ তুর্কির স্বপ্নপূরণ

আরও পড়ুন - বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে গোরাদের ঘাম ছুটিয়েছিলেন দাদা, মনে পড়ে

বিরাট কোহলি কভারে ফিল্ডিং করছিলেন তিনি কিন্তু, আউটের সম্ভাবনায় এগিয়ে আসেন। এই ক্ষেত্রে ভারতীয় দল যা করে থাকে সেই ধোনি রিভিউ সিস্টেমে যান কোহলি। অর্থাৎ ডিআরএস নেওয়া হবে কিনা তাই নিয়ে আলোচনা করেন উইকেটরক্ষক ধোনির সঙ্গে। ধোনি জানান, ব্যাট বা গ্লাভসে লাগেনি। রিভিউ নেওয়ার দরকার নেই।

ধোনি বলার পরও কোহলি ও পাণ্ডিয়া তা মানতে পারছিলেন না। বিরাট কোহলি বারবার কানে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করেন, যে তিনি একটা আওয়াজ শুনেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভারত রিভিউ নেয়নি। স্পষ্টই রিভিউ নেওয়ার পক্ষে ছিলেন কোহলি। কিন্তু ধোনি বারণ করায় আর সেই দিকে পা মারাননি ভারত অধিনায়ক।

পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল জেসন রয়ের গ্লাভস-এ লেগেই গিয়েছিল ধোনি হাতে।  রয় সেই সময় ছিলেন ২০-এর ঘরে। শেষ পর্যন্ত ৫৭ বলে ৬৬ রান করে যান ইংরেজ ওপেনার। ওই সময় রয় আউট হলে ইংল্যান্ড চাপে পড়তে পারত।

ধোনি রিভিউ সিস্টেম কিন্তু এর আগে ছিল একেবারে নির্ভুল। ভারতীয় দল এই কম পরিস্থিতি হলেই ধোনির উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারত। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ম্যাচে কোহলির আউটের সময়ও তিনি নন স্ট্রাইকিং এন্ড থেকে ডিআরএস নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। আউট না হয়েও ফিরে যেতে হয়েছিল কোহলিকে। এদিনের ঘটনা নিয়ে বিশ্বকাপ ২০১৯-এ ধোনি রিভিউ বিষয়ে দুইবার ভুল করলেন। তাহলে কি সত্যিই তিনি বুড়ো হলেন?