বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস দেখলে মনে হবে যেন বুধবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ভারতের ইনিংসের রিপ্লে চালানো হয়েছে। ভারতের মতোই শুরুতেই অল্প রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল তারা। মাঝের ওভারে হার্দিক-পন্থের মতোই পর পর দুই উইকেট পড়ল অজিদেরও। আর শেষের দিকে ধোনির মতোই রান আউট হলেন অজিদের আশা ভরসা স্টিভ স্মিথ। ভারত ৪৯.৫ ওভারে তুলেছিল ২২১, আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ৪৯ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয়ে গেল।

এদিন অবশ্য কোনও প্রশংসাই ইংল্যান্ড দলের বোলিং-এর জন্য যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক দলই প্রতিপক্ষ ব্য়াটসম্যানের দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করে কিন্তু তা মাঠে নেমে কর দেখানো ততটাই কঠিন বিষয়। এদিন কিন্তু একেবারে চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলল ইংরেজরা। তাদের শরীরী ভাষা দেখে মনে হল যেন কাপের গন্ধ পাচ্ছে মর্গান বাহিনী।  

এদিন দ্বিতীয় ওভার করতে এসেছিলেন জোফ্রা আর্চার। প্রথম বলেই তিনি খাতা খোলার আগেই তাঁকে এলবিডব্লু করেন আর্চার। এরপর বুধবার যেমন 'সেট আপ' করে বিরাটকে আউট করেছিলেন বোল্ট, সেরকমভাবেই ডেভিড ওয়ার্নার (৯)-কে ফিরিয়ে দিলেন ক্রিস ওকস। এরপর ওকস পিটার হ্য়ান্ডসকম্ব (৪)-কে বোল্ড করে দেওয়াতে মাত্র ১৪ রানে ৩ উইকেটের পতন ঘটে অজিদের।

এখান থেকে অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ (৮৪) ও উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স কেরি (৪৬) নিজেদের মধ্যে ১০৩ রানের জুটি গড়েন। শুরুতেই আর্চারের বলে মুখে জোরালো আঘাত পাওয়ার পর কিন্তু বেশ ভাল খেলেন কেরি। কিন্তু ২৮ তম ওভারে পর পর আঘাত হানলেন আদিল রশিদ। প্রথমে কেরি, আর ২ বল পরেই স্টইনিস (০)-কে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২৮ ওভারে ১১৮/৫ করে দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার ভারতের ৫ উইকেট পড়েছিল ৩০ ওভারের মাথায়, ৯২ রানে।

আরও পড়ুন - খুবই উদ্বেগের, গত পাঁচ বছর ধরেই চলছে ভারতের এই প্রবণতা! দেখুন পরিসংখ্যান

আরও পড়ুন - ছিটকে যাওয়ার চাপেই কি কাবু বিরাট, বারবার নকআউটে ব্যর্থতার রেকর্ড তাই বলছে

আরও পড়ুন - ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, সেমিফাইনাল - চার প্রধান তারকা সংঘাত

এরপর দ্বিতীয় স্পেল করতে এসেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখানো গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (২২)-কে ফিরিয়ে দেন আর্চার। আর ৩৯তম ওভারে কামিন্স (৬)-কে এক দারুণ ডেলিভারিতে ফিরিয়ে দেন সেই রশিদ।

অপর দিকে একের পর এক উইকেটের পতন ঘটলেও দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন স্টিভ স্মিথ। আবার দেখিয়ে দিলেন, তিনি বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে শতরান করেছিলেন এদিন ১১৯ বলে ৮৫ রান করে তিনিই অস্ট্রেলিয়াকে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছে দিলেন। শেষ তিন ওভারে যখন তিনি রানের গতি বাড়াতে যাচ্ছেন তখনই ধোনির মতোই রান আউট হয়ে গেলেন। এইদিন গাপ্টিলের জায়গা নিলেন বাটলার। স্টার্কও শেষের দিকে ২৯ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।

ইংরেদজ বোলারদের মধ্যে ওকস ও রশিদ ৩টি করে উইকেট নিলেন। এছাড়া আর্চার ২টি এবং ওকস ১টি উইকেট দখল করেছেন। তবে সবার সেরা অবশ্যই ওকস। ৮ ওভারে মাত্র ২০ রান দিযেছেন তিনি।