ক্রিকেটকে বলা হয় একবলের খেলা। অন্তত ব্যাটসম্যানদের জন্য তো বটেই। আর তার উপর যদি পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে হারলেই ছিটকে যেতে হবে, তাও বিশ্বকাপের মতো বড় মাপের প্রতিযোগিতা থেকে - তাহলে চাপ যে কতটা বেড়ে যায় তা সকলেই কিছুটা হলেও অনুমান করতে পারেন। এই পাহাড়-প্রমাণ চাপের মুখেই কি তিনি বারবার ভেঙে পড়ছেন?

নিঃসন্দেহে, বুধবার ভারতের ইনিংসের শুরুতে একেবারে আগুনে বোলিং করেছেন কিউই বোলাররা। শুরুতেই ভারত রোহিত শর্মা, কেএল রাহুলের সঙ্গে বিরাট কোহলির মূল্যবান উইকেটটিও হারায়। ম্যাচের পর কোহলি নিজেও জানিয়েছেন যখন দলের সবচেয়ে দরকার, তখনই রান করতে না পেরে তিনি হতাশ। কিন্তু এটাই প্রথমবার নয়। পরিসংখ্য়ান বলছে বিশ্বকাপের নকআউট স্তরে বারবারই ব্যর্থ হয়েছেন কোহলি।

মঙ্গল-বুধবারের সেমিফাইনাল ধরলে বিশ্বকাপের নকআউট স্তরের মোট ৬টি ম্যাচে তিনি মাত্র ৭৩ রান করতে পেরেছেন। গড় ১২.১৬। স্ট্রাইক রেটও ৫৬.১৫। সেখানে তাঁর একদিনের ক্রিকেটের কেরিয়ার গড় ৫৯.৪, স্ট্রাইক রেট ৯৩!

বিরাট বিশ্বকাপের নকআউট স্তরের প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন ২০১১ সালে। কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারতের সামনে ছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্য়াট করে রিকি পন্টিং-এর ১০৪ রানের জোরে ২৬০/৬ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে সচিন, গম্ভীর, যুবরাজের অর্ধশতরানে ভারতস সহজেই ভারত জয় পেয়েছিল। তরুণ বিরাট করেন ৩৩ বলে ২৪।

আরও পড়ুন - খুবই উদ্বেগের, গত পাঁচ বছর ধরেই চলছে ভারতের এই প্রবণতা! দেখুন পরিসংখ্যান

আরও পড়ুন - ৪৫ মিনিটের খারাপ ক্রিকেট, তাতেই ছিটকে গেল দল! বিরাট বিশ্লেষণ

আরও পড়ুন - বিরাট-রোহিত ভরসা কাটাতে হবে! হৃদয় ভেঙেছে সচিনের

এরপর সেমিফাইনালে মোকাবিলা ছিল ভারত-পাকিস্তানের। প্রথমে বাযট করে ভারত। সচিনের ৮৫ রানে ভর করে পাকিস্তানের সামনে ২৬১ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয়। মিসবা উল হকরা ২৩১ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, বিরাট ২১ বলে ৯ এর বেশি করতে পারেননি।

২০১১ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ২৭৪/৬ রান করেছিল। জয়বর্ধনে শতরান (১০৩) করেন। গম্ভীরের ৯৭ ও ধোনি ৯১ রানে ইতিহাস তৈরি হয়েছিল ওয়াঙ্খেড়ে তে। বিরাট করেথছিলেন ৪৯ বলে ৩৫।

এর চার বছর পর বিশ্বকাপ ২০১৫-এর কোয়ার্টার-ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয় ভারত। রোহিত শর্মা ১৩৭ করেছিলেন। বাংলাদেশ ১৯৩ রানেই অলআউট হয়ে যায়। সেই ম্যাচে বিরাচের অবদান ছিল ৮ বলে ৩।

সেমিফাইনালে ভারতকে ১০১ রানে পরাজিত করে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্য়াট করে ৩২৮/৭ তুলেছিল তারা। স্টিভ স্মিথ ১০৫, অ্যারন ফিঞ্চ ৮১ রান করেছিলেন। রান তাড়া করতে গিয়ে চেজ মাস্টারের ব্য়াট থেকে এসেছিল ১৩ বলে ১ রান। ধোনির ৬৫ রান ও রাহানের মন্থর ৪৪ রান, কাজে আসেনি।

আর বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচে তিনি ৬ বল খেলে ওই ১ রানের বেশি করতে পারলেন না।