বিশ্বকাপ আসলেই যেন ভারতীয় দলের সঙ্গে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সংঘাত বাধাটা যেন অবশ্যম্ভাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালেও এই চিত্র দেখা গিয়েছিল। চার বছর পরেও তাতে এতটুকু বদল হল না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৫ জন অভিয়ান শুরুর দুদিন আগেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাংবাদিক সম্মেলন বয়কট করল ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম।

পাঠানো হল নেট বোলার

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের দুদিন আগে সাংবাদিক সম্মেলনে অধিনায়ক, কোচ, কোনও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় বা অন্তত কোনও সাপোর্ট স্টাফকে সাংবাদিক সম্মেলনে পাঠাবে টিম ইন্ডিয়া এমনটাই আশা করা হয়েছিল। যে কোনও দলই তাই করে থাকে। কিন্তু অপেক্ষারত সাংবাদিকদের অবাক করে সাংবাদিক সম্মেলনে আসেন তিন নেট বোলার দীপক চাহার, আবেশ খান ও খলিল আহমেদ।

সংবাদমাধ্যমের ক্ষোভ

এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সংবাদমাধ্যম। বিশেষ করে উপস্থিত বরিষ্ঠ সাংবাদিকরা অত্যন্ত রেগে যান। তাঁরা ভারতীয় দলের মিডিয়া ম্যানেজারকে বলেন ভারতীয় দল যদি সাংবাদিক সম্মেলন না করতে চায়, ঠিক আছে। কিন্তু, টিমের একেবারে তরুণ কিছু সদস্য, যাঁরা মূল দলেও নেই, দল সম্পর্কে কিছু বলার অধিকার যাঁদের নেই - তাদের সাংবাদিক সম্মেলনে পাঠানোটা সংবাদমাধ্যম ও তরুণ ওই ক্রিকেটারদের উভয় পক্ষের জন্যই অপমানজনক।

কেন সাংবাদিক সম্মেলনে নেট বোলাররা?

সাংবাদিকদের ক্ষোভের জবাবে বারতীয় দলের পক্ষ থেকে বলা হয় নেট বোলার হিসেবে খলিল থেকে গেলেও মঙ্গলবারই দেশে ফেরার বিমান ধরবেন দীপক ও আবেশ। তাই তার আগে তাঁদের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ভাবনা থেকেই এই তিন জনকে সাংবাদিক সম্মেলনে পাঠানো হয়। সেইসঙ্গে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, ভারতীয় দল এখনও বিশ্বকাপ অভিয়ান শুরু করেনি, তাই এখনই কোচ, অধিনায়ক বা অন্য কোনও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সাংবাদিক সম্মেলনে পাঠানো অর্থহীন। ভারত খেলা শুরু করলে তাঁরা আসবেন।

সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য

মিডিয়া ম্যানেজারের এই যুক্তি অবশ্য সাংবাদিক মহল অসাড় বলে মনে করছে। বরং এইভাবে ভারতীয় দল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই, 'যা দেব, তাই খেতে হবে', মিডিয়াকে ঠারে ঠারে তাই বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে বলে মনে করছে সাংবাদিক মহল।

২০১৫-তে কী হয়েছিল

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ চলাকালীন একমাত্র প্রাক-ম্য়াচ ও ম্য়াচ-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলন ছাড়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। সাংবাদিক সম্মেলনগুলিতেও আসতেন একমাত্র অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। নমো নমো করে সম্মেলন সেড়ে চলে যেতেন। দিনের সেরা পারফর্মার-এর সঙ্গেও কথা বলার সুযোগ জোটেনি মিডিয়ার।