প্রতি চার বছর পর অন্তর হয় বিশ্বকাপ। আর সেই টুর্নামেন্টের ফাইনাল, অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে তবেই ।যে ম্যাচে খেলার সুযোগ পাওয়া যায়। কাজেই রবিবার বিশ্বকাপ ২০১৯-এর ফাইনালে, ইংল্য়ান্ড ও নিউজিল্যান্ড - দুটি দলই যে দারুণ চাপে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। তার উপর এদিন যে দলই জিতবে তারাই নতুন চ্যাম্পিয়ন হবে।

অনেকেই ফাইনালে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন। চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে কয়েকটি ম্যাচ হেরে গেলেও গত ক.য়েক ম্যাচে ইংল্যান্ড একেবারে নিখুঁত ক্রিকেট খেলেছে। কিন্তু, বিশ্বকাপের নকআউট স্তরে আগে কে কি করেছে তার কোনও মূল্য থাকে না। নির্দিষ্ট দিনে কারা ভাল খেলছে, পরিবেশ পরিস্থিতি - বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করে। সেমিফাইনালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্টের দুই সবচেয়ে ধারাবাহিক দলের ছিটকে যাওয়াই এর প্রমাণ।

ইংরেজ ব্যাটসম্য়ানরা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে একেবারে চরম আধিপত্য দেখিয়েছেন। যেভাবে হেলায় তারা অস্ট্রেলিয়ার ২২৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করেছে, তাতে ফাইনালের আগে তারা আত্মবিশ্বাসের  একবারে তুঙ্গে। মূল ভরসা অবশ্যই দুই ওপেনার জেসন রয়. জনি বেয়ারস্টো এবং জো রুট। আর বোলিং-এর ক্ষেত্রেও আর্চার, উড, ওকস, রশিদরা একেবারে পরিকল্পনা মাফিক খেসলে চলেছেন।

অপর পক্ষে বিশ্বকাপে কিউই ব্যাটিংকে মূলতঃ টানছেন কেইন উইলিয়ামসন ও রস টেলর। তবে দলে রয়েছেন মার্টিন গাপ্টিল-ও। বড় ম্য়াচে জ্বলে ওঠার প্রবণতা রয়েছে যাঁর। ব্য়াটিং-টা কিছুটা নড়বড়ে হলেও বোল্ট, লকি ফার্গুসন, মিচেল স্যান্টনারদের বোলিং আক্রমণ কিন্তু দুর্দান্ত। ভারতের মতো শক্তিশালী ব্য়াটিং লাইমআপের বিরুদ্ধেই তার প্রমাণ মিলেছে।  

সার্বিকভাবে এবং বিশ্বকাপে হওয়া মোকাবিলা -  দুই ক্ষেত্রেই জয়ের পরিসংখ্যানের পাল্টাটা ভারি কিউইদের পক্ষে। তবে ইংল্যান্ডের মাঠে মোট
 ২৯টি ওডিআই-এর মধ্যে ইংল্যান্ড ১৭টিতে জিতেছে। অতীত পরিসংখ্যানের গুরুত্ব না থাকলেও গত দুই বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছে যেই দেশে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা হয়েছে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ইংরেজরা সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যান, নাকি নিউজিল্যান্ড তা ভেঙে দেয়, সেটাই দেখার।