অবসর নিলেন যুবরাজ সিং। ২০০০ সালে কেনিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের জার্সিতে তাঁর অবির্ভাব ঘটেছিল। তারপর থেকে নানান উত্থান-পতন মধ্যে দিয়ে গিয়েছে এই মহান ব্য়াটসম্যানের ক্রিকেট জীবন। ২০১১ সালে ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। আরও এক আইসিসি বিশ্বকাপ চলার সময়ই তিনি অবসরের কথা ঘোষণা করলেন।

চলতি বছরের আইপিএল-এর পর থেকেই যুবরাজ অবসর নিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে সোমবারএল সেই ঘোষণা। তবে এখনই তিনি সব ধরণের ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন না। আগামী এক-দুই বছর তিনি বেসরকারি টি২০ লিগে খেলতে চান। এই বিষয়ে তিনি ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে আবারও কথা বলতে চান।
 
২০০০ সালে ভারতীয় ক্রিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে মেন ইন ব্লু জার্সিতে খেলতে শুরু করেছিলেন যুবরাজ। একই সঙ্গে জাহির খান ও যুবরাজের মতো দুই তরুণকে ভারতীয় দলে জায়গা দিয়েছিলেন তৎকালীন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়। প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৪ রান করে বিশ্বকে তাঁর আবির্ভাবের জানান দিয়েছিলেন যুবরাজ।

তারপর থেকে ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। তবে তার মাঝেই কর্কট রোগ থাবা বসিয়েছিল তাঁর শরীরে। ক্যানসারের বিরুদ্ধেও লড়াই করে ফিরে এসেছিলেন তিনি। ভারতের হয়ে জাতীয় দলের জার্সিতেও প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল তাঁর। কিন্তু ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ফের বাদ পড়ে যান জাতীয় দল থেকে। গত দুই বছর ধরে আইপিএল-এও চেনা যুবরাজকে দেখা যাচ্ছিল না।

যুবরাজ জানিয়েছেন, তিনি বোর্ডের কাছে অবসরের জন্য কোনও বিশেষ ম্যাচ দাবি করেননি। যেরকমটা দেখা গিয়েছিল আশিষ নেহরার ক্ষেত্রে। যুবির মতে তিনি নিজের ক্ষমতায় দলে থাকতে পারলে একরকম হত। তিনি জানিয়েছেন বোর্ড তাঁকে বলেছিল ইয়োইয়ো টেস্ট পাস করতে না পারলে তাঁর অবসরের বিশেষ ম্য়াচ আয়োজন করা হবে। কিন্তু যুবি তাতে রাজি হননি। সেই টেস্ট পাস করেছিলেন। তবে দলে জায়গা হয়নি।
 
মোট ৩০৪টি একদিনের ম্যাচে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন যুবি। ৩৬.৫৫ গড়ে ৮,৭০১ রান করেছেন তিনি। মোট ১৪টি শতরান ও ৫২টি অর্ধশতরান করেছেন তিনি। বল হাতে উইকেট নিন ১১১টি। টেস্ট ম্যাচ অবশ্য বেশি খেলা হয়নি তাঁর। ৪০টি টেস্ট ম্যাচে ৩৩.৯২ গড়ে ১৯০০ রান করেছেন তিনি। ৩টি টেস্ট শতরান রয়েছে তাঁর। টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটের পাশাপাশি ভারতের হয়ে টি২০ খেলেছেন ৫৮টি। রান করেছেন ১১৭৭।

তবে যুবরাজ সিং-এর কেরিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম মুহূর্ত অবশ্যই ২০১১ বিশ্বকাপ। মোট ৩৬২ রান করেছিলেন সেই বিশ্বকাপে। একই সঙ্গে ১৫টি উইকেটও নিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম অলরাউন্ডার যিনি বিশ্বকাপে ৩০০-এর বেশি রান ও ১৫টি উইকেট নিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি সিরিজের সেরা হয়েছিলেন।

২০০৭ সালে ভারতের টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পিছনেও তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে স্ট্রুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে তাঁর মারা ছয়টি ছয় কিন্তু টি২০ বিশ্বকাপের সূচনার আইকনিক মুহূর্ত হয়ে রয়েছে।