করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের সঙ্গে ফের একবার মাথা চারা দিয়ে উঠেছে ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ড। এতদিন পর্যন্ত ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে রাতের ঘুম উড়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। সম্প্রতি ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে বোর্ডকে না জানানোয় ৩ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়েছেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান উমর আকমল। তারপর গড়াপেটা নিয়ে পিসিবি বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন একের পর এক প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার। এবার গড়াপেটা কাণ্ডে নাম জড়াল পাকিস্তানের পড়শি দেশ আফগানিস্তানের। গড়াপেটা নাম জড়াল আফগান ব্যাটসম্যান শফিকুল্লা শাফকের। যার কারমে ছ’বছরের জন্য সমস্ত ধরনের ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করা হল তাকে।

আরও পড়ুনঃকেন তাকে খুনের হুমকি দিয়েছিলেন ভিভ রিচার্ডস, জানালেন আক্রম

শফিকুল্লা শাফকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৩০ বছরের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান একাধিকবার ম্যাচ গড়াপেটা করেছেন কিংবা গড়াপেটার চেষ্টা করেছেন। ২০১৮ সালে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির উদ্বোধনী মরশুমে এবং পরের বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে নাম জড়ায় শাফকের। বিজ্ঞপ্তিতে আফগান বোর্ড তাই জানায়, জেন্টলম্যান্স গেমকে কলঙ্কিত করেছেন তিনি। এমনকী ঘরোয়া ক্রিকেটকেও প্রভাবিত করা চেষ্টা করেছেন। দুর্নীতিদমন আইন ভঙ্গ করার শাস্তিস্বরূপই তাঁকে ৬ বছরের জনয নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগান ক্রিকেট বোর্ড।

 

 

আরও পড়ুনঃলকডাউনে নস্টালজিক রবি শাস্ত্রী,শেয়ার করলেন দেশের মাটিতে করা প্রথম সেঞ্চুরির ছবি

আরও পড়ুনঃ১৬ মে নতুন শুরু,তার আগে জেনে নিন বুন্দেসলিগার প্রথম দশ দলের অবস্থান

এর আগে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা সহ কয়েকটি দেশের নাম গড়াপেটার সঙ্গে জড়ালেও, সদ্য বিশ্ব ক্রিকেটেনতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসা আফগানিস্তানের নাম এতদিন জড়ায়নি। তাই শাফকের জন্য মাথা হেঁট হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এসিবির দুর্নীতিদমন শাখারম্যানেজার সৈয়দ আনওয়ার শাহ কুরেশি বলেন, “এটা অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ। জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্নীতির প্রবেশ করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ২০১৯ বিপিএলে এই গড়াপেটার কাজে এক সতীর্থকেও সঙ্গী করতে চেয়েছিলেন শাফক।” তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করেছেন দেশের হয়ে ৪৬টি টি-টোয়েন্টি খেলা তারকা শাফক। সেই সঙ্গে উঠতি ক্রিকেটাররা যাতে তাঁর মতো অপরাধে না জড়ান, সেই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের সঙ্গেও যুক্ত হতে রাজি হয়েছেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছে এসিবি। তবে এরপর ম্যাচ গড়াপেটার বিষয়টি নিয়ে আরও তৎপর থাকার কথাও বলা হয়েছে এসিবির তরফে।  ভবিষ্যতে যেন এধরনের ঘটনা না ঘটে তারজন্য প্রয়োজনে আরও কঠোর হবে বোর্ড তাও জানানো হয়েছে  আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে।