বেহালা টু বিসিসিআই ভায়া লর্ডস। সফরটা বেশ লম্বা। সৌরভ থেকে এক কথায় দাদা-প্রিন্স অব কলকাতা হয়ে ওঠার গল্পে একাধিক টুইস্ট। কখনও লর্ডসের মাঠে জামা ঘোরানো, বা কখনও পাকিস্তানের মাটিতে অধিনায়ক হিসাবে সিরিজ জয়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মানেই ক্রিকেট আবেগ। বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সৌরভ। উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। যেই মানুষটি এক সময় সৌরভ-সচীনের অবসরের পর ক্রিকেট মুখো হতেন না। তাড়াও আজ ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্বের সঙ্গে লিখছেন প্রাউড অব ইউ প্রিন্স অব কলকাতা, বাংলা ও বাঙালির গর্ব তুমি। সৌরভ মানেই আলাদা কিছু করে দেখানোর চেষ্টা। সবার চেয়ে আলাদা মানসিকতা। আলাদা মেজাজ সঙ্গে অধিনায়ক হিসাবেও অন্যতম সেরা। আর তাই সফল ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পাশাপাশি এবার আলাদা করে সৌরভের কাছে চ্যালেঞ্জ দক্ষ প্রশাসক হিসাবে দেশের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার। আর সেই উদাহারণটাই বিশ্বের সামনে রাখা লক্ষ্য মহারাজের। আর সেই ঘরের ছেলেকে শুক্রবার সংবর্ধনা দিল ক্রিকেট অস্যোসিয়েশন অব বেঙ্গল। শুক্রবার সন্ধায় নিজের ডেরায় রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন সৌরভ চণ্ডীদাস গঙ্গোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে ইডেন গার্ডেন্সে শুক্রবার নেমে এল চাঁদের হাট।

 

আজহারউদ্দিনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল সৌরভের। আর সেই সেই বোর্ড প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুক্রবার হাজির ছিলেন আজহারউদ্দিন। একই সঙ্গে ভারতীয় দলে সৌরভের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সতীর্থ ভিভিএস লক্ষ্মণও এদিন হাজির ছিলেন সৌরভের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। জীবনে হার কি জিনিস সেটা জানেন না সৌরভ। প্রথম থেকেই নিজের জেদে বড় কিছু করে দেখানোটাই একমাত্র লক্ষ্য ছিল সৌরভের। ক্লাব ক্রিকেট থেকে শুরু করে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ হোক বা ভারতের জার্সি গায়ে খেলা। মাঠের মধ্যে সবার থেকে আলাদা উদ্যম দেখা যেত বাঙালি ছেলেটার শরিরি ভাষায়। আর সেই জেদ নিয়েই এবার এগিয়ে সভাপতি পদ নিয়ে এগিয়ে যেতে চান সৌরভ। রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়ে আপ্লুত মহারাজ বলেন, 'ভারতীয় ক্রিকেট দলকে যে ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছি। অবশ্যই সেভাবেই নেতৃত্ব দেব। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে যেটা প্রমান করার সেটা হল, ক্রিকেটাররাও প্রশাসকের ভূমিকায় সফল ভূমিকা পালন করতে পারে। আর সেই ছাপটা এবার ভারতীয় ক্রিকেটে প্রথমবার ফেলে দিতে চাই।' এই প্রথম স্বাধীন ভারতে সর্ব কনিষ্ঠ সভাপতি পেল বোর্ড একই সঙ্গে প্রথম ক্রিকেটার সভাপতিও পেল বিসিসিআই। তাই এখানেও নিজের প্রথম ছাপ ফেলে দিলেন দ্যি প্রিন্স অব কলকাতা।

আরও জানতে দেখুন ভিডিও, নিজের রাজত্বেই সংবর্ধিত মহারাজ..

শুক্রবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সৌরভের গর্বের দিনে হাজির ছিলেন সৌরভের প্রথম অধিনায়ক আজহার ও ভারতীয় দলে মহারাজের অন্যতম সতীর্থ ভিভিএস লক্ষ্মণ। একই সঙ্গে ভিডিও স্ক্রিনে সৌরভকে এক এক করে শুভেচ্ছা জানালেন হরভজন সিং, বীরেন্দ্র শেহওয়াগ, সুনীল গাভাস্কর সহ গ্রেম স্মিথ, ব্রায়ান লারা, কেভিন পিটারসনরা। কলকাতা এসে সৌরভকে নিয়ে আজহারউদ্দিন বলেন, 'ভারতীয়ে ক্রিকেট দলে সৌরভের অবস্থান অন্যররকম ছিল। অভিষেক ম্যাচের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে সৌরভকে আমি বলেছিলাম ওপেন করার কথা। আর সে এক কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিল। আর তারপর থেকে সৌরভের চোখে মুখে সেই আগুনটাই দেখতে পাই। তাই আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে আরও আগে নিয়ে যাবে সৌরভ। তাঁকে কোনও রকমের তাবেদারি করতে হয়নি। নিজের উদ্যমেই ক্রিকেট খেলেছেন তিনি।' পাশাপাশি আজহারউদ্দিন কলকাতার আবেগ নিয়ে মজা করে আরও বলেন, 'কলকাতার মাঠে আমার কদর সব সময় ছিল। ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে মনে হয় কলকাতা আমাকে দ্বিতীয় স্থানে রেখেছিল। অবশ্যই প্রথম স্থানে ছিল সৌরভ। তবে লক্ষ্মণ আসার পর সেই জায়গাটাও আর রইল না।'

আজহারউদ্দিনের পাশাপাশি শুক্রবার বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভের কাছ থেকে আরও কিছু পাওনা আশা করেন ভিভিএস লক্ষ্মণও। সভাপতি সৌরভকে নিয়ে লক্ষ্মণ বলেন, 'ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমি সৌরভের থেকে অনেক কিছু চাই। কয়েকটা জিনিসেই সীমিত থাকা যাবে না। প্রথমত এনসিএকে আরও ভালো করে গড়ে তুলতে হবে। ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির ওটা তৃণমূল স্তর। একই সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিটি পদক্ষেপে ধ্যান রাখবে সৌরভ। এমনটাই আশা করি। সৌরভের মধ্যে নির্ভয়ে একটা নেতৃত্ব দেওয়ার আগুন রয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের সর্ব সেরা অধিনায়ক তিনি। এবার পুরো ভারতীয় ক্রিকেটের নেতা সৌরভ। তাই আগামী দিনে আরও ভালো হবে বলেই মত।' পাশাপাশি শুক্রবার সৌরভের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চাঁদের হাটের পাশাপাশি সিএবির তরফ থেকে রুপোর ফলক দেওয়া হয় মহারাজকে। একই সঙ্গে সিএবিতে সৌরভের বিরোধী গোষ্ঠীও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেন ফলক ও মহারাজকে মুকুট পরিয়ে দেন বিশ্বরূপ দে সহ বাকিরা। একই সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত করা হয় ভারতীয় ক্রিকেটার অস্যোসিয়েশনের নয়া সভাপতি প্রাক্তন বাংলা ক্রিকেটার অশোক মালহোত্রাকেও।