মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার আপটশেস্ট্রুম শহরের সেনউইস পার্কে অনূর্ধ্ব -১৯ আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২০ এর প্রথম সেমি-ফাইনালে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে গ্যালারি থেকে উঠল 'কাশ্মীর বনেগা পাকিস্তান' স্লোগান। তাতে অবশ্য মাঠে পাকিস্তানের নাকাল হওয়া আটকালো না। যশশ্বী জয়সওয়ালের দুর্দান্ত শতরানের উপর ভর করে ১০ উইকেটে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে চূর্ণবিচূর্ণ করল ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

এদিন পাকিস্তানি অধিনায়ক রোহালি নাজির টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভারতীয় পেসারদের দাপটে এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের পক্ষে বুমেরাং হয়ে যায়। কার্তিক ত্যাগী এবং শুশান্ত মিশ্র দুটি করে উইকেট শিকার করেন। চাপের মুখে দুর্দান্ত পরিণতির পরিচয় দিয়ে হায়দার আলী (৫৬) এবং অধিনায়ক নাজির (৬২) অর্ধশতরান করে তৃতীয় উইকেটে ৬২ রান জুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় বোলাররা দ্রুত প্রত্যাবর্তন ঘটান এবং মিডল ও লোয়ার অর্ডারকে দ্রুত আউট করে ৪৩.১ ওভারে পাকিস্তানকে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে দেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বিন্দুমাত্র ঘাম না ঝরিয়েই যশস্বী জয়সওয়াল (১০৫)-এর শতরান এবং তারসঙ্গে দিব্যংশ সাক্সেনা (৫৯)-র যোগ্য সঙ্গতে ৩৫.২ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যান। শুরুটা সতর্কতার সঙ্গে করলেও পরের দিকে পাক বোলারদের অলআউট আক্রমণে গিয়ে মাঠে প্রায় আতশবাজীর খেলা দেখান ভারতীয় দুই ওপেনার। বিশেষ করে যশস্বী ৮টি চার মারার পাশাপাশি ৪টি বিশাল ছয়-ও মারেন। ম্যাচের পর তাঁর প্রশংসার পঞ্চমুখ হয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।

পাকিস্তানের পক্ষে মাঠে বলার মতো কিছু না থাকলেও মাঠের বাইরে ঝড় তুললেন এক দক্ষিণ আফ্রিকার বাসিন্দা পাক সমর্থক। এদিন এক ভাইরাল হওয়া ভিডিওয়, তাকে গ্যালারি থেকে 'কাশ্মীর বনেগা পাকিস্তান' বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি সোশ্য়াল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ওই দক্ষিণ আফ্রিকার পাক সমর্থকের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ভারতীয় সমর্থকরা।

তবে, মাঠের বাইরের এই ঘটনায় মাঠের ভিতরে ভারতীয়দের শৌর্য বিন্দুমাত্র ঢাকা পড়েনি। এদিন যশস্বী ম্যাচটি শেষ-ও করেন প্রায় মহেন্দ্র সিং ধোনির কায়দায়। ধোনি যেমন, ২০১১ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে ছয় মেরে রঙিন করে তুলেছিলেন জয়ের মুহূর্ত-কে তেমনই করে দেখালেন তরুণ ভারতীয় ব্যাটার। এদিন তিনি ৯৯ রানে ব্য়াট করার সময় ভারতের জয়ের জন্য আর ৩ রান দরকার ছিল। সেই সময়ই পাক বোলার আমির আলির বলে ছয় মেরে একই সঙ্গে তিনি শতরান পূর্ণ করেন এবং ফাইনালে ভারতের জায়গা নিশ্চিত করে দেন। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির ফাইনালে জয় পেলে ভারত পঞ্চম অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ঘরে তুলবে।