অ্যাডিলেড টেস্টে লজ্জার হার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানে অল আউট। বিরাট কোহলির দেশে ফিরে যাওয়া। মহম্মদ শামির চোটের জন্য সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া। চারিদিকে অ্যাডিলেড টেস্ট হার নিয়ে সমালোচনার বাণে বিদ্ধ গোটা দল। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় দলের দায়িত্ব অজিঙ্কে রাহানের কাঁধে দিয়ে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে দেশ ফিরেছিলেন বিরাট কোহলি। তারপর বক্সিং ডে টেস্টে যেটা ঘটল তা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায়। মেলবোর্নে টেস্টে আট উইকেটে জয় পেয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ভারতীয় দল। একইসঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটে জয়যাত্রা শুরু হল অধিনাক রাহানের।

বক্সিং ডে টেস্টে টস হারের পর অনেকেই আশঙ্কা করেছিল টেস্টে ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের দুরন্ত পারফরমেন্সে ১৯১ রানেই শেষ হয়ে যায় অজিদের প্রথনম ইনিংস। বুমরা, সিরাজ, অশ্বিনদের দুরন্ত বোলিং তো বটেই, সকলের নজর কাড়েন অজিঙ্কে রাহানের অধিনায়কত্বও। বোলিং চেঞ্জ থেকে ফিল্ডিং পরিবর্তন, নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে পুরোপুরি পরিকল্পনা করে  রণনীতি সাজানো, সব কিছুতেই ফুল মার্কস রাহানের। তারপর প্রথম ইনিংসে বিপুল চাপের মধ্যে রাহানের সেঞ্চুরি। যাকে ইতিমধ্যেই ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিয়েছেন সুনীল গাভাসকর। রাহানের ব্যাটিং য়ের প্রশংসা করেছেন মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর থেকে শুরু করে বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। বিরাট কোহলিও রাহাবের প্রশংসা করেছেন। জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে রাহাবের অনবদ্য পার্টনারশিপের সৌজন্যে ৩২৬ রান করে ভারত। ১৩১ রানের লিড পায় টিম ইন্ডিয়া।

দ্বিতীয় ইনিংসেও রাহানের মগজাস্ত্র ও ভারতীয় বোলারদের দাপটের কাছে গুটিয়ে যায় অস্ট্রলিয়ার তারকাখোচিত ব্যাটিং লাইন আপ। ২০০ রানেই শেষ হয় ইনিংস। মাত্র ৬৯ রানের লিড পায় ব্যাগি গ্রিনরা। ৭০ রানের টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে মায়াঙ্ক ও পুজারা তাড়াতাড়ি প্যাভেলিয়নে ফেরত যান। তখন শুভমান গিলের সঙ্গে ভারতকে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে দেন রাহানে। ২৭ রান করেন তিনি।  ম্যাচে দুরন্ত পারফরমেন্সের সৌজন্যে ম্যান অব দ্য ম্যাচও নির্বাচিত হন অজিঙ্কে রাহানে। জয়ের পর যোগ্য নেতা হিসেবেই পুরো দলকে কৃতিত্ব দিয়েছেন রাহানে। নিজে ম্যাচের সেরা হয়েও, অভিষেক টেস্টে শুভমান গিলের দুই ইনিংসে ৪৫ ও ৩৫ রানের অকুতোভয় ইনিংস ও মহম্মদ সিরাজের ৫ উইকেট নেওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাহানে।

ম্যাচের শেষে সেরা হয়ে রাহানে বলেন,'উমেশ চোট পেয়ে বেরিয়ে গেলেও আমাদের অসুবিধা হয়নি জাডেজা থাকায়। শুভমন বহু দিন ধরে ভাল খেলছে ঘরোয়া ক্রিকেটে। এই ম্যাচেও ও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। সিরাজ দেখিয়েছে এক ভাবে বল করে যেতে পারে ও। অভিষেক ম্যাচে এই শৃঙ্খলা বজায় রাখা খুব কঠিন।' অ্যাডিলেডে হারের পর ভারতের জয় পাওয়া অসম্ভব মনে করেছিলেন অনেকেই। রাহানে বলেন, “মাঠে নিজেদের প্রমাণ করাটাই আসল। সবাই অ্যাডিলেড নিয়ে কথা বলছিল। এক ঘণ্টায় বদলে গিয়েছিল সেই ম্যাচে অনেক কিছু। নিজেদের প্রমাণ করে আমরা ফিরে আসতে পেরেছি। এখন সব সমান।” রাহানের বক্তব্য থেকেও পরিস্কার কতটা পরিণত অধিনায়ক তিনি। ইতিমধ্যেই অনেকেই বলতে শুরু করেছেন বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে রাহানে বুঝিয়ে দিলেন ভারতীয় টেস্ট দলের দ্বিতীয় অধিনায়কও তৈরি রয়েছেন। যা ভারতীয় ক্রিকেটে ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে খুবই ভালো দিক। ফলে বছর শেষে দেশকে জয় উপহার দেওয়াই নয়, মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্ট ভারতীয় দলকে হদিশ দিল এক নতুন এক নতুন ঠান্ডা-স্থির, অকুতোভয়, চাপের মধ্যেও অবিচল অধিনায়কের।