চার দিন নয়, টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনেরই হওয়া উচিত বলে মনে করেন সচিন তেন্ডুলকর। বিরাট কোহলির মতো সচিনও মনে করেন, বছরের পর বছর যেভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলা হয়েছেন, সেভাবেই তা খেলা উচিত। 

টেস্ট ক্রিকেট-এর দৈর্ঘ্য কমিয়ে পাঁচ দিন থেকে চার দিনের করা উচিত কি না, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। আইসিসি-র ক্রিকেট কমিটি ২০২৩ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্ব টেস্ট চ্যম্পিয়নশিপ-এ পাঁচ দিনের বদলে চার দিনের টেস্ট করার কথা ভাবছে। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার স্বার্থে এই পরিকল্পনা আদৌ কার্যকর করা উচিত কি না, তা নিয়েই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। 

সংবাদসংস্থা পিটিআই- কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার বলেছেন, 'পুরনোপন্থী হিসেবে এবং টেস্ট ক্রিকেটের একজন গুণমুগ্ধ হিসেবে আমি মনে করি না এতে কোনও বদল আনার প্রয়োজন আছে। এত বছর ধরে যেভাবে  খেলাটা হয়ে আসছে, সেভাবেই হওয়া উচিত।'

আরও পড়ুন- বুমরার প্রত্যাবর্তন, বিরাটের নজির, ইন্দোরে অপরাজিত থাকার লক্ষ্যেই নামছে টিম ইন্ডিয়া

সচিনের মতে, টেস্ট ক্রিকেট চার দিনের হলে ব্যাটসম্যানরা অনেকটাই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তাড়াহুড়ো করতে শুরু করবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, 'তখন ব্যাটসম্যানদের মনে হবে ওরা সীমিত ওভারের ক্রিকেট ম্যাচের একটি দীর্ঘায়িত ফর্ম্যাট-এ খেলছে। কোনও দল যদি দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ পর্যন্ত প্রথম ব্যাট করে ফেলে, তখনই তাদের মনে হবে আর মাত্র আড়াই দিন হাতে পড়ে আছে।'

শুধু তাই নয়, টেস্ট ক্রিকেটের পঞ্চম দিনটি স্পিনারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন সচিন। তাঁর মতে, পঞ্চম দিনে বহু ম্যাচের ভাগ্যও গড়ে দেন স্পিনাররাই। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পঞ্চম দিনেই অনেকটা ভেঙে যায় পিচ। যার সুযোগ নেন স্পিনাররা। তুলনা টেনে সচিন বলেছেন, 'কোনও টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিন ফাস্ট বোলারদের বল করতে না দিলে যেমন হতে পারে, পঞ্চম দিনে স্পিনাররা বল করার সুযোগ না পেলেও সেরকমই হবে। কারণ প্রথম দিনের প্রথম সেশন থেকেই বল ঘোরে না। উইকেট ভাঙতে সময় লাগে। পঞ্চম দিনে স্পিনাররা পিচ থেকে টার্ন, বাউন্স পায়। যেটা প্রথম দু' দিন হয় না।'

ইতিমধ্যে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিও পাঁচ দিনের টেস্ট-এর পক্ষেই সওয়াল করেছেন। তিনি মনে করছেন, দিন রাতের টেস্ট ক্রিকেট পর্যন্তই বদল ঠিক আছে। কিন্ত শুধুমাত্র বিনোদন আর দর্শক টেনে আনতেই চার দিনের টেস্ট ক্রিকেট করার পক্ষপাতী নন বিরাট। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, এর পরে টেস্ট ক্রিকেট কমিয়ে তিন দিনের করতে বলা হবে। আর এভাবেই এক সময় টেস্ট ক্রিকেট হারিয়েই যাবে।