নতুন বিয়ে হয়েছে বলে কথা। তারপর দিনের পর দিন বউকে ছেড়ে থাকা সত্যিই কষ্টের। বিয়ের পরপর বউকে কাছে পেতে, বউয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে কে না চায়। তাতে যদি কোনও নিয়ম ভাঙতে হয়,তাতেও নেই কোনও দোষ। নতুন বউয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর নেশাটাই যে আলাদা। তা বলে নিয়মের বেড়াজালে পরে বউকে নিজের কাছে রাখতে দিনের পর দিন আলমারীতে লুকিয়ে রাখতে হবে? কী সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল,হঠাৎ এই কথা শোনার পর অবাক হলেন? এমনই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তী অফ স্পিনার সাকলিন মুস্তাক। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সময় এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন পাক তারকা। অবসরের এত বছর পর সেই সত্যি সামনে আনলেন সাকলিন।

আরও পড়ুনঃজর্জিনার রিং ফিঙ্গারে জ্বলজ্বল করছে হীরের আংটি,তাহলে কি আসন্ন রোনাল্ডোর বিয়ে

১৯৯৮ সালে বিয়ে করেছিলেন সাকলিন। তারপরই ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের সময় স্ত্রীর সঙ্গে থাকা শুরু করেন পাক তারকা। কারন সই সময় সাাকলিন মুস্তাকের স্ত্রী লন্ডনে থাকতেন। বিশ্বকাপের শুরুর দিকে পাক দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের থাকার ব্যাপারে কোনও বিধিনিষেধ ছিল না। কিন্তু পরের পরিবারের লোকজনদের দেশে পাঠানোর নির্দেশ দেয় পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। সাকলাইন বলেছেন,'সেই সময় দিনের বেলা হাড়ভাঙ্গা অনুশীলন করতাম। আর সন্ধ্যার সময় স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটাতাম। এটাই অভ্যাস হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে টিম ম্যানেজমেন্ট বলল স্ত্রীদের সঙ্গে রাখা যাবে না। আমি কোচ রিচার্ড পাইবাসকে বললাম, সব তো ঠিকই আছে। তাহলে এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী! আসলে আমি বিনা কারণে কোনো কিছুর পরিবর্তনে বিশ্বাস করি না। তাই ঠিক করেছিলাম দলের ওই সিদ্ধান্ত মানব না।'

আরও পড়ুনঃবিশ্ব ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের এমন কিছু রেকর্ড,যা ভাঙা একপ্রকার অসম্ভব

আরও পড়ুনঃক্রিকেট ইতিহাসে এমন ৫ ক্রিকেটার,যারা কোনও দিন 'নো বল' করেননি

এরপরই বউকে ঘরে লুকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন সাকলিন। তিনি জানান,টিমের ম্যানেজার,'কোচ ও অন্যান্য অফিশিয়ালদের স্ত্রীকে দেখে ফেলার ভয় ছিল। তাছাড়া ক্রিকেটাররাও আড্ডা দিতে আসত রুমে। আমার রুমের দরজায় টোকা পড়লেই স্ত্রীকে আলমারিতে লুকিয়ে ফেলতাম। এভাবে অনেকদিন আমার স্ত্রী আলমারিতে লুকিয়ে থেকেছে। একদিন আজহার মাহমুদ, ইউসুফ ইউহানা রুমে এল। ওরা সন্দেহ করছিল যে আমার স্ত্রীর রুমে আছে। তারপর ওরা ভরসা দিতে স্ত্রীকে আলমারির বাইরে বেরিয়ে আসতে বললাম। ফাইনাল ম্যাচে হারের পর স্ত্রীকে লন্ডনের অ্যাপার্টমেন্টে চলে যেতে বলেছিলাম। কারণ তখন দলের সবার মনের অবস্থা ভাল ছিল না।' সেই সময় হয়তো এই সত্য প্রকাশ্যে আসলে শাস্তির মুখে পড়তে হত সাকলিনকে। কিন্তু অবসরের এতবছর পর এই সাকলিনের এই ঘটনা বেশ মনে ধরেছ নেটাগরিকদের। সেই বিশ্বকাপে দুরন্ত পারফর্ম করেছিলেন সাকলিন। নেট দুনিয়ায় অনেকেই বলতে শুরু করেছেন,সাকলিনের দুরন্ত পারফরমেন্সের রহস্য লুকিয়ে ছিল আলমারীতই।