বিশ্বকাপের হ্যাংওভার এখনও কাটেনি। তারমধ্যেই ভারতীয় দল আগামী মাসে ক্যারিবিয়ান সফর দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে। আর তার আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি ভারতের জাতীয় নির্বাচকরা। ধোনির ভবিষ্যত, নতুন চার নম্বর ব্যাটসম্যান, পরের ফাস্ট বোলিং ইউনিট, টেস্ট ওপেনার, ঋদ্ধিমান না পন্থ - এরকমই বেশ কিছু জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে তাঁদের। বিশ্বকাপে ভারতের দল নির্বাচন নিয়ে এমনিতেই নির্বাচক কমিটির ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। তাই ২১ তারিখের দল নি্বাচন নিয়ে বেশ চাপে তাঁরা।

ইতিমধ্যেই বোর্ড থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধোনির বদলে এখন থেকে পন্থকেই অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২০ সালের টি২০ বিশ্বকাপের জন্য় তৈরি করা হবে তাঁকে। ধোনি এখনও অবসর নেননি। পন্থকে তৈরি করার জন্যই তাঁকে দলে রাখা হবে নাকি একেবারে ছেঁটে ফেলা হবে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল তাই নিয়েই। কিন্তু ধোনি কাজটা কিছুটা সহজ করে দিয়েছেন। জানা গিয়েছে আপাতত দুই মাস তিনি ক্রিকেট থেকে অব্যাহতি নিয়ে প্যারা রেজিমেন্টের সঙ্গে ট্রেনিং করবেন।

বিশ্বকাপের দুই বছর আগে থেকে খোঁজ চালিয়ে বিশ্বকাপ কেটে গেলেও এখনও ভারত যে আদর্শ চার নম্বর ব্যাটসম্য়ান খুঁজে পায়নি তা স্পষ্ট করে দিয়েছএন কোচ রবি শাস্ত্রীই। বিজয় শঙ্কর এখনও সুস্থ নন। বিশ্বকাপে শেষের দিকে চার নম্বরে ব্য়াট করলেও এখনও এই জায়গায় পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি ঋষভ পন্থ। তাঁকে আরও সুযোগ দেওা হতে পারে। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে ক্যারিবিয়ান সফরে চার নম্বর জায়গা দখলের লড়াইতে থাকবেন ভারত এ দলের হয়ে ভাল খেলা মনীশ পাণ্ডে, শ্রেয়স আইয়ার ও শুভমান গিল-ও। প্রত্য়েকেই এই মুহূর্তে রানের মধ্যে আছেন। শিখর ধাযওানের অনুপস্থিতিতে শুভমান গিলকে দিয়ে ওপেন করানোও হতে পারে।

শোনা যাচ্ছে ক্যারিবিয়ান সফরে সীমিত ওভারের খেলায় বিশ্রাম পাবেন জসপ্রীত বুমরা ও মহম্মদ শামি-ও। ফলে এই সময় ভারত আরও কিছু জোরে বোলার তৈরি করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। গত এশিয়া কাপ থেকেই নির্বাচকদের নজরে রয়েছেন খলিল আহমেদ। চোখ রয়েছে দারুণ গতিতে বল করা নভদীপ সাইনির উপরেও। দুজনেই বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় দলে নেট বোলার হিসেবে ছিলেন। বুমরা, শামি না খেললে এই দুই তরুমের সামনে বড় সুযোগ আসবে। এছাড়া সুযোগ আসতে পারে দীপক চাহারেরও।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটের মতো টেস্টেও আসন্ন সফরে ভারতীয় দলে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। শিখর ধাওয়ান ও মুরলি বিজয় অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেই ভারতীয় টেস্ট দলের নকশার বাইরে চলে গিয়েছেন। আসন্ন সফরে সম্ভবত কেএল রাহুল ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল প্রথম দুই ওপেনার হিসেবে থাকবেন। তবে রঞ্জি ট্রফি ও ভারত 'এ' দলের হয়ে ভাল খেলার সুবাদে তৃতীয় ওপেনারের জায়গার জন্য লড়াইয়ে থাকবেন গুজরাতের প্রিয়াঙ্ক পঞ্চল ও বাংলার অভিমন্যু ঈশ্বরণ।

তবে সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটা হল টেস্ট দলে ঋদ্ধিমান সাহা না ঋষভ পন্থ? ২০১৬-১৭ মরসুমো বাংলার উইকেটটরক্ষক নিজেকে টেস্ট দলের প্রথম উইকেটরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে চোট পেয়ে তিনি ছিটকে যান। আর তাঁর অনুপস্থিতি দারুণ সুযোগ এনে দেয় পন্থের সামনে। আর সেই সুযোগ একেবারে দারুণভাবে  কাজে লাগান তরুণ উইকেটরক্ষক। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ায় শতরান করেছেন, তবে তাঁর কিপিং দক্ষতা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। ঝুঁকি না নিয়ে নির্বাচকরা দুজনকেই দলে সুযোগ দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সেই ক্ষেত্রে কে প্রথম একাদশে সুয়োগ পাবেন সেই অস্বস্তিকর অবস্থা সামলাতে হবে কোচ ও অধিনায়ককে।