অস্ট্রেলিয়ার কাছে দশ উইকেটে হারের পরেও ভেঙে পড়ছেন না বিরাট কোহলি। বরং দলের উপর ভরসা রেখে সমর্থকদেরও ধৈর্য ধরতে বলছেন। পাশাপাশি মুম্বাইতে ব্যাটিং লাইন আপ-এ পরীক্ষা নিরীক্ষা করা নিয়েও কোনও আফশোস নেই তাঁর। 

এ দিন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে শিখর ধাওয়ান এবং কে এল রাহুল দু' জনকেই রাখা হয়। রোহিত শর্মা দলে ফেরায় ধাওয়ান তাঁর সঙ্গে ওপেন করেন। তিন নম্বরে নিজে না নেমে রাহুলকে পাঠান বিরাট। রাহুল যে একেবারে ব্যর্থ তা বলা যাবে না। ৪১ রান করে আউট হন তিনি। কিন্তু ব্যাটিং অর্ডারে বদল করে সফল হননি ভারত অধিনায়ক। মাত্র ষোল রান করেই ফেরেন তিনি। 

আরও পড়ুন- জোড়া শতরানে পিষে গেল বিরাট-বাহিনী, একডজন ওভার হাতে বাকি থাকতেই খেল খতম

আরও পড়ুন- দর্শকদের খোলানো হল কালো পোশাক, তীব্র বিতর্কে ওয়াঙ্খেড়ে স্টেডিয়াম

অস্ট্রেলিয়ার কাছে একপেশে হারের পরেই ব্যাটিং অর্ডার-এ পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকরা। প্রশ্ন ওঠে, যে তিন নম্বরে নেমে তিনি টানা রান করেছেন, সেই জায়গাটি আচমকা কেন রাহুলকে ছাড়তে গেলেন বিরাট? একই সঙ্গে সেই পুরনো প্রশ্নটাই ফের উঠে এসেছে। একদিনের ক্রিকেট ভারতের হয়ে চার নম্বরে কে ব্যাট করবেন? কারণ গত তিন বছরে প্রায় ডজনখানেক ব্যাটসম্যানকে চার নম্বরে খেলানোর পরেও এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। 

এ  দিন খেলার পর অধিনায়ক কোহলি বলেন, 'আমরা অতীতেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু রাহুল ভাল ফর্মে রয়েছে, তাই ওঁকে দলে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে আমি চার নম্বরে ব্যাট করলে ফলাফল আমাদের পক্ষে যাচ্ছে না। দেখা যাক কী হয়!

সমর্থকদের আশ্বাস দিয় অধিনায়ক আরও বলেন, 'একটা ম্যাচে হারের জন্যই চিন্তিত হয়ে পড়ার কিছুই নেই। কিছুটা পরীক্ষানিরীক্ষার অধিকার আমাকেও দেওয়া হয়েছে। 

অধিনায়ক যাই বলুন না কেন, রাহুলকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে কোহলির চার নম্বরে নামাটা অনেকেই সমর্থন করছেন না। প্রশ্ন উঠছে , ওয়েস্ট ইন্ডিজ-এর বিরুদ্ধে চার নম্বরে নেমে ভাল খেলা সত্ত্বেও কেন শ্রেয়স আয়ারকে এ দিন চার  নামানো হয়নি?

কোহলি অবশ্য সিরিজ শুরুর আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সাম্প্রতিক ফর্মের নিরিখে রাহুলকে দলে রাখা হবে। আর তা করতে গেলে রাহুলকে কোহলির তিন নম্বর জায়গা থেকে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায়ও ছিল না। একদিনের ক্রিকেটে তিন নম্বরে ব্যাট করে কোহলির গড় থাকে ৬৩-র উপরে। আর তিনিই চার নম্বরে নামলে ব্যাটিং গ়ড় হয় ৫৫.২১। 

এ দিন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম-এ তিন নম্বরে নেমে রাহুল সেট হয়ে গিয়েও আউট হয়ে যাওয়ায় এবং কোহলি দ্রুত ফেরায় ভারতের রান তোলার গতি ধাক্কা খায়। শেষ পর্যন্ত ৪৯.১ ওভারেই মাত্র ২৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। কোনও উইকেট না হারিয়েই তা তুলে নেয় ফিঞ্চ ও ওয়ার্নার জুটি। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।