কথায় বলে সুসময়ে সকলেই পাশে থাকে, দুঃসময়ে নয়। কিন্তু সুরেশ রায়নার মত বন্ধু পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। তা নাহলে প্রিয় বন্ধু তথা অধিনায়কের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেও অবসর গ্রহণ করতেন না। সব থেকে বড় বিষয় যেখানে কেরিয়ারের প্রসঙ্গ। কিন্তু সুরেশ রায়না সেই বিরল কাজটি করে আরও একবার প্রমাণ করেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি সত্যিই শুধু তার সতীর্থ বা বন্ধু নয়, তার থেকেও অবেক বেশি। শনিবার স্বাধীনতার দিবসের সন্ধায় হঠাৎই ক্রিকেটকে বিদায় জানান এমএস ধোনি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ধোনির পথ অনুসরন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান সুরেশ রায়না। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন,'আপনার সঙ্গে খেলা একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি হৃদয় থেকে গর্বিত এই যাত্রায় আপনাকে সঙ্গ দিতে পেরে। ধন্যবাদ ভারত। জয় হিন্দ।' একই দিনে দুই প্রিয় বন্ধুর অবসর গ্রহণ নতুন নজির সৃষ্টি করল ভারতীয় তথা বিশ্ব ক্রিকেটে।

আরও পড়ুনঃধোনির সুখ-দুঃখের সঙ্গী তিনি, অবসরের পর আবেগঘন বার্তায় কি জানালেন সাক্ষী

ধোনি যে তার শুধু বন্ধু নন তার থেকে অনেক বেশি কাছের মানুষ, সেই কথা বার বার বলেছেন সুরেশ রায়না। চলতি মাসেই ফ্রেন্ডশিপ ডে তে ধোনির ও রায়নার বন্ধুত্ব নিয়ে একটি সুন্দর ভিডিও শেয়ার করে তাদের আইপিএল দল চেন্নাই সুপার কিংস। সেই ভিডিও দেখে সুরেশ রায়না সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন সুরেশ রায়না। আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, চেন্নাই সুপার কিংসকে এমন একটি সুন্দর ভিডিও তৈরি করার জন্য ধন্যবাদ। মাহি ভাই শুধু আমার বনধু নয়, নির্দেশিকা শক্তি, পরামর্শদাতা, এবং সব থেকে কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন যিনি, এমন এক জন। ধন্যবাদ মাহি বাই। আপনাকে বন্ধুত্ব দিবসের শুভেচ্ছা। শীঘ্রই দেখা হবে।' বর্তমানে আইপিএল খেলার জন্য চেন্নাইতে অনুশীলন শিবিরে যোগ দিতে একত্রিত হয়েছে সিএসকে দল। সেখানে যাওয়ার পরই অভিন্ন হৃদয় দুই বন্ধু একসঙ্গে ক্রিকেট বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

 

 

আরও পড়ুনঃসচিনের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, ধোনির অবসরে ভারাক্রান্ত মাস্টার ব্লাস্টার

আরও পড়ুনঃসৌরভ যে 'দাদা',তা বুঝিয়ে দিলেন ধোনির অবসর নিয়ে করা এই মন্তব্যে

সুরেশ রায়না তার চেন্নাই সুপার কিংস ও প্রাক্তন জাতীয় দলের অধিনায়কের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে একসঙ্গে প্রায় ১৫ ধরে ক্রিকেট খেলেছেন। সম্ভবত একমাত্র ক্রিকেটার সুরেশ রায়না, যে খেলা থেকে দূরে থাকাকালীনও এমএস ধোনির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ধোনির সঙ্গে অনেকটা পারিবারিক সম্পর্ক রায়নার। এমনকী ২০১৫ সালে জিভার জন্মের বিষয়ে জানাতে সাক্ষী রায়নাকেই ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন। কারণ সেই সময় আইসিসি ইভেন্টে ফোন নিয়ে যাননি ধোনি। এই ঘটনাও প্রমাণ করে ধোনির সঙ্গে রায়নার সম্পর্কের গভীরতা। অনেকেই তাদের বন্ধুত্বকে 'শোলে' সিনেমার 'জয়-বীরু' জুটির সঙ্গে তুলনা করছেন। কেরিয়ারের শেষে এসে ধোনির পথ অনুসরন করে যেভাবে অবসর গ্রহণ করলেন রায়না, তাতে ধোনি-রায়নার বন্ধুত্ব ভারতীয় ক্রিকেট মনে রাখবে আজীবন।