নির্বাচন যতই এগোচ্ছে ততই প্রদানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ-এর প্রতি সুর চড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হাওড়ার আন্দুলে এক নির্বাচনী জনসঊভায় এবার সরাসরি বিজেপির এই দুই শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক যোগ্যতাকেই চ্যালেঞ্জ করে বসলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে তৃণমূলের একজন ব্লক সভাপতিরও রাজনৈতিক নেতা হওয়ার যে যোগ্যতা রয়েছে মোদ-শাহ'এর সেটুকুও নেই।

এদিন দীর্ঘদিন বাদে তাঁর মুখে ফের শোনা যায় সিপিআইএল-এর আমলে নিয়মিত অত্যাচারের কাহিনী। মমতা অভিযোগ করেন সলেই ইতিহাস দিল্লির বিজেপি নেতাদের জানা নেই। বাম শাসনের ৩৪ বছরের বাংলা নিয়ে তাদের কোনও গরজ দেখা যায়নি। আর এখন শুধুমাত্র ভোটের লোভে বাংলায় এসে তৃণমূলের অত্যাচারের মিথ্যা কাহিনি ফাঁদছেন তাঁরা।

মমতা সাফ জানান, রাজনৈতিক নেতা হতে গেলে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি জানতে হয়। তিনি জানান, শুধু তামিল ভাষাটি ছাড়া ভারতের সব প্রদেশের ভাষাই তিনি অল্প অল্প বুঝতে পারেন। এমনকি কিছু সংস্কৃত শব্দ থাকায় কেরলের ভাষাও বোঝেন। বাংলার মানুষ হয়েও তিনি গুজরাতের ধোকলা, গুজরাতের 'কেমছো  ভাইছো', গুজরাতি ডান্ডিয়া, তামিলনাড়ুর ভারাক্কাম, ইডলিটা, উপমা, ধোসা, বিহারের রুটিচোখাটা, মুম্বইয়ে আলুগোপ্পা বোঝেন। সব প্রদেশের খাবার-দাবার বোঝেন, জামা-কাপড় বোঝেন।

অপর দিকে এসব কিছু নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহ বোঝেন না। তাঁরা শুধু বোঝেন দাঙ্গার রাজনীতি। কী করে হিন্দু মুসলমানে ভেদ সৃষ্টি করে ভোটের বাক্সে লাভ করা যায় তাই বোঝেন বিজেপির নেতারা। এই প্রসঙ্গে সভামঞ্চ থেকেই মমতা নদীয়া জেলার এক বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক ছবি ছড়ানোর অভিয়োগ করেন।

এছাড়া, মোদী-শাহ'এর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলেও তিনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেন। তিনি জানান, অটল বিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার রেলমন্ত্রী থাকাকালীন প্রথম তিনি নরেন্দ্র মোদীকে দেখেছিলেন। তার আগে তাঁকে চিনতেনই না। ভূমিকম্পে গুজরাতের রেল-লাইনের ক্ষতি হয়েছিল। বাজপেয়ীর নেতৃত্বে মন্ত্রীসভার দলের সদস্য হিসেবে গুজরাতে যান মমতা। সেই সময় এক ব্যক্তি অটল বিহারী বাজপেয়ীর ব্য়াগ বইছিলেন। বিজেপির অন্যান্য নেতারা মমতাকে জানিয়েছিবলেন ওই ব্য়াগ বাহকের নাম নরেন্দ্র মোদী।

মোদী কীরকম মানুষ তা অবশ্য নিজে মুখে জানাতে সৌজন্য়ে বেধেছে মুখ্যমন্ত্রীর। এই বিষয়ে লালকৃষ্ণ আদবানি বা মুরলী মনোহর জোশীদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী।