অমিতাভ বচ্চন সম্প্রতি ইরানের এক প্রাচীন বিষ্ণু মন্দিরের কথা সামনে এনেছেন, যা ভারত-ইরান সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নিদর্শন।

অমিতাভ বচ্চন বরাবরই অযোধ্যার রামমন্দির নিয়ে নিজের আবেগ এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, অযোধ্যায় একাধিক জমি কেনার ঘটনাও তাঁকে বারবার শিরোনামে এনে দিয়েছে। এ বার তিনি আলোচনায় উঠে এলেন এক অন্য কারণে— ইরানের একটি প্রাচীন বিষ্ণু মন্দিরের কথা সামনে এনে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে অমিতাভ একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের শহর বন্দর আব্বাস (Bandar Abbas)-এ অবস্থিত এক ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির। বহু নেটাগরিকই এই পোস্ট দেখে বিস্মিত হয়েছেন। কারণ, ইরানে শতাধিক বছরের পুরনো একটি বিষ্ণু মন্দিরের অস্তিত্ব সম্পর্কে ভারতে খুব কম মানুষই জানতেন।

অমিতাভ তাঁর পোস্টে জানান, ১৮৯২ সালে ‘কাজার’ যুগে এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল। সে সময় ভারতীয় হিন্দু ব্যবসায়ীরা কর্মসূত্রে বান্ডার আব্বাস এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁদের ধর্মীয় উপাসনার জন্যই এই মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। ইতিহাস বলছে, ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বহু পুরনো। সেই সম্পর্কেরই এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এই মন্দির।

আজও মন্দিরটি ভারত-ইরান সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক অনন্য সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অমিতাভের পোস্ট ঘিরে বহু অনুরাগী মন্দিরটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এই ধরনের ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও বেশি মানুষের জানা উচিত।

অন্যদিকে, অযোধ্যার সঙ্গে অমিতাভের সম্পর্ক নিয়েও কৌতূহল কম নয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তিনি রাম মন্দির থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে একটি বড় জমি কিনেছিলেন। জমিটি কেনা হয়েছিল তাঁর বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন -এর নামাঙ্কিত ট্রাস্টের নামে। প্রায় ৫৪ হাজার ৪৫৪ বর্গফুটের ওই জমি কেনার পর, মাত্র দু’মাসের মধ্যেই আরও ২৫ হাজার বর্গফুট জমি কেনেন তিনি। পরে আরও কয়েক কোটি টাকা খরচ করে অযোধ্যায় জমি কেনার খবর সামনে আসে।

এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে— কোনও ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে কি তাঁর? যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি অমিতাভ।

তবে ইরানের এই প্রাচীন বিষ্ণু মন্দিরের প্রসঙ্গ সামনে এনে আবারও তিনি যেন মনে করিয়ে দিলেন, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিস্তার কেবল দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তার ছাপ ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে।