গত সপ্তাহেই মাকে হারিয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে জয়পুরে মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেননি অভিনেতা। গত শনিবার বার্দ্ধক্য জনিত দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত হয়েছিলেন ইরফান খানের মা সইদা বেগম। সেদিন  রাত্রেই রাজস্থানের চুঙ্গি নাকা কবরস্থানে পরিবারের হাতে গোনা সদস্যের উপস্থিতিতে  শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় সইদা বেগমের। কিন্তু লকডাউনের কারণে আর মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা হয়নি অভিনেতার। ভিডিয়ো কনফারেন্সে মায়ের শেককৃত্যে অংশ নিতে হয়েছিল ইরফানকে। তবে নিয়তির লেখায়  মায়ের মৃত্যুর সাত দিনের মধ্যেই ফের সইদার সঙ্গে তাঁর সন্তানের দেখা হল জীবনের ওপারে। 

 

 

মায়ের মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই অভিনেতার অবস্থার অবনতি হয়। গত সোমবারই মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি  হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় ইরফানকে। আইসিইউতে রাখতে হয় তাঁকে। ব্রেনে টিউমার নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে লড়াই করছেন তিনি। সুস্থ হয়ে 'আংরেজি মিডিয়াম' ছবির মধ্যে দিয়ে কামব্যাকও করেছিলেন ইরফান। কিন্তু আবারও অসুস্থ হয়ে  ভর্তি হলেন ইনফেকশন নিয়ে। বুধবার  সকালে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: লকডাউনের মধ্যেই খুলল কেদারনাথের দরজা, দর্শন করুন বাবার দিব্যরূপ

২০১৮ সালে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইরফান। কঠিন রোগ নিউরো এন্ডোক্রিন ক্যানসারের দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলছিল লন্ডনে। মঙ্গলবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই উদ্বেগ তৈরি হয়। জানা যায়, কোলন ইনফেকশন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ভারতের অন্যতম সেরা অভিনেতার হাসপাতালে ভর্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বলিউড থেকে শুরু করে তার ভক্তকূল সকলেই সুস্থতা কামনা করতে থাকেন। তবে সবাইকে নিরাশ করেই বুধবার নিজের দীর্ঘ লড়াই শেষ করলেন অভিনেতা। 

আরও পড়ুন: অফুরন্ত পানীয় থেকে সুন্দরী তরুণী, দেখে নিন কিম জং উনের বিলাসবহুল ট্রেনের অন্দর

এভাবে তিনি ছেড়ে চলে যাবেন কেউ হয়তো তা কল্পনাও করেনিন। বাঙালি স্ত্রী সুতপা সিকদার ও দুই সন্তান বাবিল ওআয়ানকে রেখে গেলেন অভিনেতা। দু'দিন আগে মাকে হারিয়েছিলেন অভিনেতা। অসুস্থতা আর লকডাউনের কারণে শেষদেখা হয়নি দু'জনের। অসুস্থ শরীরে মায়ের মৃত্যুশোক কোথাও হয়তো মেনে নিতে পারেননি অভিনেতা। তাই সইদা বেগমের মৃত্যুর ২ দিনের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ইরফানকে।  এবার মায়ের কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে চিরশান্তির ঘুম ঘুমোবেন অভিনেতা।