‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর শুটিংয়ে সলমন খান ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের প্রেমের এক অজানা ঘটনা ফাঁস করলেন অভিনেত্রী স্মিতা জয়কর।

পর্দায় তাঁদের প্রেম দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন অসংখ্য দর্শক। তবে সলমন খান ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের সম্পর্কের উষ্ণতা যে শুধু ক্যামেরার সামনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তারই এক মজার ঘটনা সামনে আনলেন অভিনেত্রী স্মিতা জয়কর। ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর শুটিং চলাকালীন একটি দৃশ্যে ঐশ্বর্যর হাত ছুঁয়ে বসেন সলমন। কিন্তু সেই স্পর্শের কথা চিত্রনাট্যে লেখা ছিল না। আর এতেই আপত্তি জানান পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছবির সেটের সেই পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন স্মিতা।

১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ পরিচালনা করেছিলেন সঞ্জয় লীলা বনশালি। ছবিতে ঐশ্বর্যর মায়ের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল স্মিতাকে। সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কান্নানের সঙ্গে কথোপকথনে অভিনেত্রী জানান, ছবির শুটিংয়ের সময় থেকেই সলমন ও ঐশ্বর্য একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের আচরণেই সেই ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলত। বাস্তব জীবনের এই আবেগ পর্দায় তাঁদের প্রেমের দৃশ্যগুলিকেও যেন অন্য মাত্রা দিয়েছিল।

সলমন ও ঐশ্বর্যর প্রেমের গল্পের পাশাপাশি তাঁদের শুটিংয়ে দেরি করে পৌঁছনোর ঘটনাও মনে রয়েছে স্মিতার। অভিনেত্রীর দাবি, সকাল ৭টায় কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত তাঁদের জন্য। কখনও আবার দু’জন একসঙ্গে সকাল ১১টা নাগাদ সেটে এসে পৌঁছতেন।

এ নিয়ে ইউনিটের অন্য সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হত। নির্ধারিত সময়ে শুটিং শুরু না হওয়ায় কলাকুশলীদের অপেক্ষা করতে হত দীর্ঘক্ষণ। তবে স্মিতার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কিছুটা আলাদা। তাঁর কথায়, কেউ যখন প্রেমে পড়েন, তখন এমন আচরণকে খুব একটা অস্বাভাবিক মনে হয় না। সলমন ও ঐশ্বর্য তখন নিজেদের জগতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে আশপাশের ব্যস্ততা যেন তাঁদের কাছে গুরুত্ব হারিয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটেছিল ‘আঁখোঁ কি গুস্তাখিয়াঁ’ গানের শুটিংয়ের সময়। দৃশ্যের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সলমনের একটি টেবিলের চারপাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কথা ছিল। আর ঐশ্বর্য দাঁড়িয়ে থাকবেন নির্দিষ্ট জায়গায়। কিন্তু শট চলাকালীন আচমকাই ঐশ্বর্যর হাত ছুঁয়ে ফেলেন সলমন। অথচ পরিচালকের নির্দেশে এমন কোনও মুহূর্ত রাখাই হয়নি।

সলমনের এই আচরণ নজরে পড়তেই তাঁকে থামিয়ে প্রশ্ন করেন বনশালি, কেন তিনি ঐশ্বর্যর হাত ছুঁয়েছেন। স্মিতার বর্ণনা অনুযায়ী, ঐশ্বর্যর প্রতি সলমনের গভীর টান থেকেই এমনটা ঘটে যায়। কিন্তু পরিচালকের কাছে দৃশ্যের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে চলাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই চিত্রনাট্যের বাইরে গিয়ে এমন আচরণ করায় সলমনকে বকুনি শুনতে হয়।

স্মিতার কথায়, গোটা ঘটনাটি দেখে সেটে উপস্থিত অনেকেই হেসে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে, সবার সামনে এমন পরিস্থিতিতে পড়ে লজ্জা পেয়েছিলেন ঐশ্বর্য। তাঁদের সম্পর্ক যে শুধুই সহ-অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, সেই ইঙ্গিত তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

এর আগেও ‘ফিল্মিমন্ত্র’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সলমন ও ঐশ্বর্যর সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছিলেন স্মিতা। তাঁর মতে, ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁদের প্রেম ক্রমশ গভীর হয়েছিল। সেই বাস্তব অনুভূতির ছাপই বড় পর্দায় তাঁদের রোম্যান্টিক দৃশ্যগুলিকে আরও স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। বহু বছর পরেও ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর সেই রসায়ন দর্শকদের মনে জায়গা করে রয়েছে। আর শুটিং সেটের এই অজানা ঘটনা ফের আলোচনায় নিয়ে এল সলমন-ঐশ্বর্যর পুরনো প্রেমের অধ্যায়।