বিয়ে 'বিভ্রাট' নিয়ে অবশেষে সরব হিরণ চট্টোপাধ্যায়! কোন বিয়ে আসল? অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেতা

অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয় নিয়ে প্রবল বিতর্কে জড়িয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। তাঁর বিবাহ নিয়ে যে জটিল সমস্যা তৈরি হয়েছে তা এখনও আদালতের বিচারাধীন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হিরণের দ্বিতীয় বিবাহের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায় তিনি বারাণসীর ঘাটে মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার ঋতিকা গিরি-র সঙ্গে হিন্দু ধর্মানুযায়ী বিয়ে করছেন। এই ছবি প্রকাশের পর থেকেই জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

যদিও হিরণ কয়দিন চুপ ছিলেন, শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি আগে কলকাতায় ছিলেন না ও চেন্নাইতে ছিলেন, যার কারণে এতদিন নীরব ছিলেন। তিনি আরও জানান যে, যেহেতু এই বিষয়টি বিচারাধীন (Sub-judice), তাই তিনি বিচারক বা আদালতের অসম্মান করতে চান না এবং এ বিষয়ে তিনি কোনো বিশদ মন্তব্য করতে পারবেন না। বর্তমানে তিনি নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে কলকাতাতেই অবস্থান করছেন।

হিরণের এই দ্বিতীয় বিবাহের খবর জানার পর তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, হিরণ তাঁর সঙ্গে আইনগতভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ করেননি, অর্থাৎ তারা এখনও বিবাহিত। তাঁদের একটি ১৯ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। অনিন্দিতা সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যমে জানান যে তিনি বহুদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক কষ্ট সহ্য করেছেন।

অনিন্দিতা পরে আনন্দপুর থানায় একটি FIR (অভিযোগ) দায়ের করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে হিরণ তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ না করে দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন এবং বিয়ের পর থেকেই তার উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। পুলিশ এই মামলাটি তদন্ত করছে।

ঋতিকা গিরি, যিনি মডেল ও ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার, তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে দীর্ঘদিন ধরে হিরণের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল। কিছু পোস্ট পরে তিনি নিজেই মুছে দিয়েছেন। গতকালগুলোতে তিনি আধ্যাত্মিক পোস্টও করেছেন, যেন পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকতে চান।

এই ঘটনা নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে হিরণের সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত জীবনে দ্বৈত সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, কিছু পাঠক ব্যক্তিগত বিষয়গুলোকে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। উভয়ভাবেই সামাজিক মাধ্যম আজ এই বিবৃতি কেন্দ্র করে আলোচনায়।

হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিয়ে-বিতর্কটি একটি জটিল ব্যক্তিগত সমস্যা এবং বর্তমানে আইনগতভাবে বিচারাধীন। হিরণের বক্তব্য, “আমি আদালতের অসম্মান করতে চাই না” — এই মন্তব্যই প্রমাণ করে তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন। সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের দৃষ্টির মধ্যেই এই ঘটনা ভবিষ্যতেও আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।