গোয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুণের নিজস্ব খামারবাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বলিউডের তারকারা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সম্পন্ন হল প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকরের শেষকৃত্য। শ্মশানে নয়, পুণের দোঞ্জে গ্রামে তাঁর নিজস্ব খামারবাড়িতেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় শেষ কৃত্য। পুত্র মলহার পাটেকর করেন মুখাগ্নি। জানা গিয়েছে, নানা পাটেকরের ইচ্ছার মর্যাদা দিয়েই পুণের খামারবাড়িতে হয় তাঁর শেষকৃত্য। প্রয়াত অভিনেতাকে সম্মান জানাতে মহিলা পুলিশকর্মীদের উপস্থিতিতে ২১ বার তোপধ্বনির আয়োজন করা হয়।
গোয়াতে নিজের বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন নানা পাটেকর। গোয়া থেকে যখন নানা পাটেকরের দেহ পুণেতের পৌঁছায় তখন পুণের বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। খামারবাড়িতে তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন জ্যাকি শ্রফ, সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা, অনিল শর্মা-সহ আরও অনেকে। ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস পঠাওলে, মুরলীদর মোহল-সহ অনেকেই।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। সে সময় নিজের গোয়ার বাড়িতে ছিলেন অভিনেতা। অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে গোয়ার ডোনা পাওলার এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। পথেই মৃত্যু হয় অভিনেতার। আরও জানা যায়, হৃদরোগ বুঝে ৪৫ মিনিট সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
বলিউডে তার পথ চলা শুরু ১৯৭৮ সালে। প্রথম ছবি গমন। তারপর থেকে একের পর এক দুর্ধর্ষ ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন তিনি। তিনবার জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন নানা পাটেকর। ১৯৮৯ সালে পরিন্দা ছবির জন্য বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাক্টর-র পুরষ্কার পান। এরপর বেস্ট অ্যাক্টরের সম্মান পান ১৯৯৯ সালে। তৃতীয়বার পান ১৯৯৭ সালে। অগ্নিসাক্ষী ছবির জন্য। খামোশি দ্য মিউজিক্যাল-এ তার অভিনয় চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তার পরিচালনায় মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত প্রহার দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তিনি ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন।


