নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন অভিনেতা সোনু সুদ ও মনীষা কৈরালা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ। ভারতও উদ্ধারকার্যে সাহায্য করতে ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে।

নেপালের বিধ্বংসী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন অভিনেতা সোনু সুদ এবং মনীষা কৈরালা। দেশে উদ্ধারকার্য ও ত্রাণ বিলি পুরোদমে চলছে। সোনু সুদ, যিনি প্রায়ই সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান, তিনি X হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে বন্যা দুর্গতদের সাহায্য করার কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "নেপাল, তোমরা একা নও। আমরা খাবার, আশ্রয় আর তোমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নিয়ে আসছি।"

নেপালে জন্ম মনীষা কৈরালার। নিজের দেশের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগের কথা তিনি প্রায়ই বলেন। তিনিও এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির কিছু ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “নেপালের জন্য প্রার্থনা করুন।”

এই বন্যায় নেপালের একাধিক অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৪০০ জন এখনও নিখোঁজ। CNN নেপালের পুলিশের X হ্যান্ডেলের পোস্ট উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক এবং নিরাপত্তা কর্মীরাও রয়েছেন।

নেপালের ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া এলাকার ভোটে কোশি নদীতে হড়পা বানের পর যে বিদেশি নাগরিকরা 'নিখোঁজ' হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০৫ জন ভারতীয়। পর্যটন সংস্থাগুলির থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর জানানো হয়েছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ৩৯১ জন বিদেশি এবং ৪৪ জন নিরাপত্তা কর্মী সহ শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, তিনটি জেলায় ব্যাপক পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা, ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ভেসে গিয়েছে।

জরুরি তল্লাশি ও উদ্ধারকার্য চলার মধ্যেই ভারত ১০ টন মানবিক ত্রাণ পাঠিয়েছে। এর ফলে উদ্ধার আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর X-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন, "ভারতের মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে। ত্রাণে সাহায্য করার জন্য আরও সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।" (ANI)