হলিউডের আর পাঁচজন অভিনেতাদের থেকে একেবারে ভিন্ন তিনি আন্ডারডগ হিসাবে প্রবেশ করেছিলেন চলচ্চিত্র জগতে একের পর এক ছবিতে নিজের দাপট দেখিয়ে অস্কারের মঞ্চে ডাস্টিন হফম্যান তাঁরে সেরা কাজগুলি আজও সকলের মনের মণিকোঠায়

ডাস্টিন হফম্যান। হলিউডের নায়ক নন, ব্যতিক্রমী অভিনেতা বলেই নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তাঁর কাছাকাছি সময়েই অ্যাল পাচিনো, রবার্ট ডি নিরো, জ্যাক নিকোলসন, অ্যান্থনি হপকিন‌্স, মর্গ্যান ফ্রিম্যান, মাইকেল কেন প্রমুখ। এঁদের মধ্যে থেকে নিজেকে আলাদা করার কাজটা শুধু কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব। কিন্তু তিনি পেরেছিলেন। ছবিতে প্রথম অভিনয়েই হইচই ফেলে দিলেন। ‘গ্র্যাজুয়েট’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে ডাস্টিন হফম্যান তাঁর নিজের থেকে বড় বয়সের এক মহিলার সহ, সেই মহিলারই সৎ মেয়ের সঙ্গে প্রেমের মাঝখানে পড়ে গিয়ে যে অভিনয় করেছিলেন, তখনই বোঝা গিয়েছিল কিংবদন্তির জন্ম হচ্ছে! এরপর ‘মিডনাইট কাউবয়’ ছবিতে একজন এডস আক্রান্ত সমকামী যৌনকর্মীর ভূমিকায় হফম্যান। রোগে প্রতি মুহুর্তে মরতে থাকা, সমকামের আকাঙ্খা, সামাজিক লজ্জা, পেশাদার যৌনকর্মী হওয়ার বিষাদ, নিঃসঙ্গতা সব মিলিয়ে কি সাংঘাতিক এক একটা দৃশ্যকে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছিল তাঁকে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুনঃ'সত্য আসলে সূর্যের রশ্মির মত, একদিন ঠিক বেরিয়ে আসবে', রিয়াকে উদ্দেশ্য করে কৃতির পোস্ট

‘মিডনাইট কাউবয়’ তাঁর মাস্টারপিসের মধ্যে একটি। ছবিটির ব়্যা টসো রিজো চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অস্কারে মনোনীত হয়। হফম্যান পুরস্কার না পেলেও ছবিটি সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নেয়। ‘আ লিটল বিগ ম্যান’-ও তিনি জ্যাক ক্র্যাব-এর চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন। পুরস্কার পাওয়ার মতোই কাজ ছিল তাঁর। এরপর একে একে ‘স্ট্র ডগস’ (১৯৭১), ‘প্যাপিলন’ (১৯৭৩), ‘ল্যানি’ (১৯৭৪)। ল্যানি-র জন্য আবার ৭ বছর পরে অস্কারের মঞ্চে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালে ‘অল দ্য প্রেসিডেন্ট ম্যান’ ছবিতে রবার্ট রেডফোর্ড এর সঙ্গে, একই বছর উইলিয়াম গোল্ডম্যান-এর উপন্যাস থেকে ‘ম্যারাথন ম্যান’ ছবিতে অভিনয় করেছেন স্যার লরেন্স অলিভিয়ার সঙ্গে। পরের দু'টো কাজ ‘স্ট্রেইট টাইম’ (১৯৭৮) আর ‘অ্যাগাথা’ (১৯৭৮) তেমন জমেনি। কিন্তু তার পরের বছর ‘ক্রামার ভার্সেস ক্রামার’-এ বাজিমাৎ। সেরা অভিনেতা হিসাবে অস্কার। ‘রেন ম্যান’-এ হফম্যান এক জন অর্টিস্টিক মানুষ। অটিজম মানে কেবল পাগলামো নয়, খানিকটা মেলোড্রামা আর চুল ঝাঁকিয়ে হাত পা নেড়ে আবোলতাবোল বকে যাওয়া নয়, খুব জটিল ও কঠিন অভিনয়। 

আরও পড়ুনঃপ্রায় এক কোটি টাকার ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি, ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ কীভাবে সম্ভব রিয়ার পক্ষে, ইডি-র জেরায় উঠল প্রশ্ন

হফম্যান কি হলিউড হিরো না অভিনেতা? তবে অতিমাত্রায় নিখুঁত কাজ করতে চাইতেন। যে কারণে তাঁর সঙ্গে যে কোনো পরিচালক কাজ করতে চাইতেন না। কম কাজ পেতেন। কাজ পেতে মাইকেল ডরসি হয়ে যান ডরোথি মাইকেল। অর্থাৎ মহিলা চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু ভীষণভাবেই সফল হন। ডাস্টিন হফম্যানের অন্যতম সেরা কাজ ‘টুটসি’। দু’বার একাডেমি অ্যাওয়ার্ড, সঙ্গে ৫টি গোল্ডেন গ্লোব, আরও বহু পুরকার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। একজন অভিনেতার অভিনয়গুণ বিচার কখনই পুরস্কার দিয়ে মাপা হবে না ঠিকই তবে তাঁকে উৎসাহিত বা সাহসী করতে পুরস্কারের দরকার অয় বৈকি। হফম্যান হলিউডের তথাকথিত নায়ক ছিলেন না। বরং ব্যতিক্রমী চরিত্রের অভিনেতা হিসেবেই তিনি পরিচিত। ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসেডেনা প্লে হাউস-এ থিয়েটার দিয়ে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু। থিয়েটারে যুক্ত ছিলেন বহুকাল। কিন্তু সিনেমা অভিনেতা হফম্যানের অভিনয়ে থিয়েটারের প্রভাব ছিল- একথা বলা না।