সপ্তমীর রাতে ফেসবুকে পোস্ট কবীর সুমনের নিজের ইচ্ছাপত্র শেয়ার করলেন বিখ্যাত গায়ক যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নানা জোর জল্পনা তাঁর বিষয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত নির্দেশ দিয়েছেন মৃন্ময়ীকে  

করোনা আবহে এবারের শারদ উৎসবের আনন্দ অনেকটাই ম্যাড়মেড়ে। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ঘরে বসেই পুজোর আনন্দ কিছুটা উপভোগ করছিল আমোদপ্রিয় বাঙালি। কিন্তু সপ্তমীর রাতে কবীর সুমনের একটি ফেসবুক পোস্ট বোধ হয় আরও ম্লান করল বাঙালির প্রাণের উৎসবের আনন্দ। কারণ ফেসবুকে নিজের ইচ্ছাপত্র পোস্ট করেছেন বিখ্যাত গীতিকার, সুরকার, গায়ক তথা প্রাক্তন সাংসদ। তিনি লিখেছেন,তাঁর মৃত্যুর পর যেন তাঁর সমস্ত সৃষ্টি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। পুরসভার গাড়ি ডেকে যেন সব তুলে নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আধুনিক বাংলা গানের অন্যতম রূপকার বলা হয় কবীর সুমনকে। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতেও যোগ দেন। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত হন সাংসদও। যদিও পরে ফের নিজের কর্মজগতেই ফিরে যান তিনি। শুক্রবার, সপ্তমীর রাতে করা ফেসবুক পোস্টটিতে কবীর সুমন লেখেন,'আমার মৃতদেহ যেন দান করা হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে। কোনও স্মরণসভা, শোকসভা, প্রার্থনাসভা যেন না হয়। আমার সমস্ত পাণ্ডুলিপি, গান, রচনা, স্বরলিপি, রেকর্ডিং, হার্ড ডিস্ক, পেনড্রাইভ, লেখার খাতা, প্রিন্ট আউট যেন কলকাতা পুরসভার গাড়ি ডেকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেগুলি ধ্বংস করার জন্য। আমার কোনও কিছু যেন আমার মৃত্যুর পর পড়ে না থাকে। আমার ব্যবহার করা সব যন্ত্র, বাজনা, সরঞ্জাম যেন ধ্বংস করা হয়। এর অন্যথা হবে আমার অপমান।' কিন্তু কেনও হঠাৎ কবীর সুমন এমন পোস্ট করলেন তার কারণ কিন্তু এখনও কিছু জানা যায়নি। 

এছাড়াও নিজের ফেসবুক কবীর সুমন আরও লিখেছেন,'আমার জীবনে কোনও হতাশা, দুঃখ, ব্যর্থতাবোধ, অবসাদ নেই। আমি সানন্দে বেঁচে আছি। আমার কাজ করে যাচ্ছি।' তবে পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কোনও শরীর খারাপ হল বা হাসপাতালে ভর্তি হলে বা মারা গেলে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে একমাত্র মৃন্ময়ী তোকদারের। সুমনের পোস্টের নীচে মৃন্ময়ী লিখেছেন, তিনি সুমনের দেওয়া ওই দায়িত্ব স্বীকার করে নিচ্ছেন। আবেগের বশবর্তী হয়ে পোস্টটিতে সকলকে পরামর্শ বা উপদেশ দিতেও বারন করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ফেসবুকে কবীর সুমের হঠাৎ এই পোস্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। এসব কিছুকে পাত্তা নিয়ে দিয়ে নিজের জগতেই রয়েছেন ‘তোমাকে চাই’-এর স্রষ্টা।