কেরিয়ারের একেবারে শীর্ষে থাকার সময় কী এমন হয়েছিল যে র্যাপার হানি সিং-কে সতর্ক করতে বাধ্য হয়েছিলেন শাহরুখ খান ও অক্ষয় কুমার?
র্যাপার ও গায়ক ইয়ো ইয়ো হানি সিং তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছনোর পর তিনি মাদক, অহংকার এবং মানসিক অবসাদের অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিলেন। হানি সিং এও বলেন যে, বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খান এবং অক্ষয় কুমার তাঁকে বারবার সাবধান করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, এই নেশার অভ্যাস একদিন তাঁকে পুরোপুরি শেষ করে দেবে। গায়ক স্বীকার করেছেন যে, সেই সময়ে তিনি নিজেকেই চিনতে পারছিলেন না এবং তাঁর চিন্তাভাবনা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। তাঁর এই স্বীকারোক্তি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

ABtalks পডকাস্টে কথা বলার সময় হানি সিং বলেন যে, ২০১৩-১৪ সালে সাফল্যের শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও তিনি ভেতর থেকে একদমই খুশি ছিলেন না। তিনি বলেন, “আমি তখন নিজের হুঁশে ছিলাম না। আমার হাঁটাচলা, কথাবার্তা সব অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল, আমি সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতাম। আমার মনে হতো, সবকিছু আমিই করেছি। আমি নিজেকে ভগবান পর্যন্ত বলতে শুরু করেছিলাম। কম বয়সে টাকা আর সাফল্য দুটোই পেয়েছিলাম, আর সেই সময়েই আমি ড্রাগসও নিতাম। আমি একটা সাংঘাতিক বিপজ্জনক মানসিক অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলাম।”
হানি সিং জানান, ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় তারকাই তাঁর অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, “শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান এবং অক্ষয় কুমারের মতো মানুষেরা খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন। তাঁদের মধ্যে কোনও অন্ধকার নেই। তাঁরা আমাকে দেখেই বলতেন যে আমি যা করছি, তা ভুল। বিশেষ করে শাহরুখ খান এবং অক্ষয় কুমার। শাহরুখ ভাই আমাকে অনেকবার বলেছিলেন- ‘এই জিনিসটা তোকে বিগড়ে দেবে, শেষ করে দেবে আর বরবাদ করে দেবে’।”
হানি সিং এই আলোচনায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর এই পরিণতির জন্য বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিকে দায়ী করেন না। তাঁর মতে, যা কিছু হয়েছে, তা তাঁর নিজের ভুল এবং সিদ্ধান্তের ফল। 'দেসি কলাকার' গানের সাফল্যের পর তিনি বাইপোলার ডিসঅর্ডার এবং মারাত্মক ড্রাগসের নেশায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে তাঁর অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে তিনি গান থেকে বিরতি নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। লল্লনটপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হানি সিং জানিয়েছিলেন যে, তিনি ড্রাগস এবং মদের নেশায় পুরোপুরি ডুবে গিয়েছিলেন। তিনি দিনে ১২-১৫ ঘণ্টা ধরে নেশা করতেন এবং মদের বোতলের পর বোতল শেষ করে দিতেন। হানির কথায়, “আমি আমার পরিবারকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। নিজের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। একবার তো নেশার ঘোরে আমি আমার বন্ধুর পেটে আটবার কামড়ে দিয়েছিলাম।”
দীর্ঘ বিরতির পর হানি সিং ২০২৩ সালে 'কলাস্টার' গানের মাধ্যমে কামব্যাক করেন। সম্প্রতি তিনি '51 Glorious Days' নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন এবং 'দে দে পেয়ার দে ২' সিনেমার 'ঝুম শরাবি' গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। এখন তিনি নতুন প্রোজেক্ট এবং মিউজিক ট্যুর নিয়ে ব্যস্ত।
