- Home
- Entertainment
- Nana Patekar Net Worth: অতিসাধারন জীবন যাপন! কত গাড়ি, আয় এবং স্থাবর সম্পত্তি রেখে গেলেন নানা
Nana Patekar Net Worth: অতিসাধারন জীবন যাপন! কত গাড়ি, আয় এবং স্থাবর সম্পত্তি রেখে গেলেন নানা
Nana Patekar Net Worth: ৭৫ বছর বয়সে প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকারের জীবনাবসান হয়েছে। অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন। জেনে নেওয়া যাক কতটা সম্পত্তি রেখে গেলেন নানা। তাঁর এই কাজ তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমান
Nana Patekar Net Worth: প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকার ৮ অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত। চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আজ ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় তাঁর বাসভবনে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায় এবং দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নানার বিপুল সম্পদ
তাঁর মৃত্যুর খবরটি তাঁর বিপুল সম্পদের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে, যা তাঁর অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনের সঙ্গে ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে পাটেকার ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন, অথচ তাঁর জীবনযাত্রার ধরন কখনোই সেই বিশাল সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের সঙ্গে
নানা পাটেকারের মৃত্যুর কারণ: কী ঘটেছিল নানা পাটেকারের সঙ্গে
ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে গোয়ার বাড়িতে পাটেকারকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে মৃত ঘোষণার আগে হাসপাতালের কর্মীরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর (CPR) দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার এএনআই (ANI)-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় একটি মেডিকো-লিগ্যাল মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে এখন ময়নাতদন্ত করা হবে।
নানা পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ কত
বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাটেকারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কোনো কোনো হিসাবে তা ৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি ২ থেকে ৩ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেতেন বলে জানা যায়—এই অঙ্কের সুবাদে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত চরিত্রাভিনেতা হিসেবে গণ্য হতেন, যদিও তাঁর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা।
নানা পাটেকারের মুম্বাইয়ের বাড়ি
কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় জুড়ে নানা পাটেকার মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে একটি এক-বেডরুমের ফ্ল্যাটে বসবাস করেছেন। প্রায় ৭৫০ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাটটি কয়েক দশক আগে ১.১ লাখ টাকার কাছাকাছি মূল্যে কেনা হয়েছিল। বর্তমানে এর বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হয়। মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নানা সেখানেই তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতেন; মায়ের মৃত্যুর পরেও তিনি ওই একই বাড়িতে একা বসবাস করতেন তিনি। অতীতের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি প্রায়ই বলতেন যে, ওই ছোট ফ্ল্যাটেই তাঁর সব প্রয়োজন মিটে যেত।
নানা পাটেকারের গোয়ার বাসভবন
মুম্বাইয়ের বাসস্থানের পাশাপাশি গোয়াতেও পাটেকারের একটি বাড়ি ছিল; আর এই গোয়াতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আন্ধেরিতে তাঁর সাধারণ ফ্ল্যাটের তুলনায় গোয়ার বাড়িটির নকশা ছিল অনেক বেশি আধুনিক ও সমসাময়িক। তিনি মুম্বাই, গোয়া ও পুনের মধ্যে নিজের সময় ভাগ করে নিতেন এবং প্রতিটি জায়গায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন।
নানা পাটেকরের সম্পত্তি
নানা পাটেকরের সম্পত্তি: পুনের ফার্ম হাউজ
পুনের কাছে খড়কওয়াসলায় প্রায় ২৭ একর জায়গা জুড়ে পাটেকরের একটি বিশাল ফার্ম হাউজও ছিল। সাতটি ঘর ও একটি বড় হলঘরবিশিষ্ট এই সম্পত্তিতে গম ও ধান চাষ করা হতো এবং নানা তা সমগ্র মহারাষ্ট্র জুড়ে বিক্রি করতেন। ফার্ম থেকে অর্জিত আয় ফার্মের কর্মী ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা হতো বলে জানা যায়। এছাড়া পুনের ল কলেজ রোডেও তাঁর একটি আলাদা বাড়ি ছিল।
নানা পাটেকরের গাড়ির সংগ্রহ
নানা পাটেকরের গাড়ির সংগ্রহ: তিনি কোন গাড়ি চালাতেন
চটকদার সুপারকারের বিশাল সংগ্রহের পরিবর্তে পাটেকরের কাছে ছিল ছোট কিন্তু স্বতন্ত্র কিছু গাড়ির সম্ভার। তাঁর সংগ্রহে ছিল মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪ (Mahindra Jeep CJ4), অডি কিউ৭ (Audi Q7) এবং মাহিন্দ্রা স্করপিও (Mahindra Scorpio)-র মতো গাড়ি; এই বৈচিত্র্যময় সংগ্রহটি আবারও প্রমাণ করে যে তিনি বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে গাড়ির কার্যকারিতাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন।
নানা পাটেকরের কর্মজীবন
নানা পাটেকরের কর্মজীবন: কীভাবে তাঁর ক্যারিয়ার তাঁর আয়ের উৎস হয়ে উঠল
১৯৭৮ সালে 'গমন' (Gaman) সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে পাটেকরের অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি 'পরিন্দা' (Parinda), 'ক্রান্তিবীর' (Krantiveer), 'ওয়েলকাম' (Welcome) ও 'নাটসম্রাট' (Natsamrat)-এর মতো সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে অত্যন্ত সম্মানজনক এক কর্মজীবন গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং দুটি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাঁকে 'পদ্মশ্রী' সম্মানে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারে সমৃদ্ধ এই দীর্ঘ কর্মজীবনই মূলত তাঁর সেই বিপুল সম্পদের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল, যা নিয়ে বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে।
নানা পাটেকরের সমাজসেবামূলক কাজ
পাটেকর তাঁর সমাজসেবামূলক কাজের জন্যও পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রের খরা-কবলিত কৃষক পরিবারগুলোকে তিনি সহায়তা প্রদান করেছিলেন বলে জানা যায়; বিশেষ করে লাতুর ও বিদর্ভের শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১৫,০০০ টাকার চেক তুলে দিয়েছিলেন। বন্ধু ও সহকর্মীরা প্রায়ই এই ঘটনাটিকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন যে, অর্থ বা সম্পদ কখনোই তাঁর কাছে মুখ্য বিষয় ছিল না।
নানা পাটেকার কে ছিলেন?
১৯৫১ সালের ১লা জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় বিশ্বনাথ পাটেকার হিসেবে জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেতার জীবনের শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পরিবারের ব্যবসাটি এক বিশ্বস্ত পরিচিত ব্যক্তি হাতিয়ে নেওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবাও মারা যান
এরপরই তিনি কাজ শুরু করেন; চুনাভাট্টি এলাকায় মাসে ৩৫ টাকার বিনিময়ে সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ করতেন তিনি। ২৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবা মারা যান এবং তিনি তাঁর প্রথম সন্তানকেও শৈশবেই হারান। ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন, তবে পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। তাঁর একমাত্র ছেলে মলহার পাটেকার বর্তমানে জীবিত আছেন।
Entertainment News ( বাংলা বিনোদনের খবর ): Read Entertainment News including movie reviews, Trailers, Celebrity gossips, TV shows and other Entertainment News in at Asianet News Bangla.
