লস অ্যাঞ্জেলেসে দারুণ প্রিমিয়ারের পর রণবীর কাপুরের 'রামায়ণ' বিদেশে অ্যাডভান্স বুকিংয়েই আড়াই মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে ফেলেছে। ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে ছবিটি। দেশে ও বিদেশে বক্স অফিসে এই ছবি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে এখন থেকেই তুমুল উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে।

আড়াই মিলিয়ন ডলার! রণবীর কাপুরের বহু প্রতীক্ষিত ছবি 'রামায়ণ' বিদেশে অ্যাডভান্স বুকিং থেকেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা ঘরে তুলেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ছবিটির প্রিমিয়ার হয়। সেখানে দারুণ সাড়া পাওয়ার পরই এই সাফল্য এসেছে। ছবিতে রামের ভূমিকায় অভিনয় করছেন রণবীর কাপুর। ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে এই মেগা বাজেটের ছবি।

পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি গত ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ (মঙ্গলবার) লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত অ্যাকাডেমি মিউজিয়াম অফ মোশন পিকচার্সে তাঁর এই ছবির প্রিমিয়ার করেন। বিশ্বজুড়ে মুক্তির আগে এই ইভেন্টটি দর্শকদের মধ্যে দারুণ উন্মাদনা তৈরি করেছে। রণবীর কাপুর সহ ছবির মূল তারকাদের দিকেই সবার নজর ছিল।

বিদেশের বক্স অফিসে ঝড়

'রামায়ণ'-এর বিদেশি অ্যাডভান্স বুকিংয়ের অঙ্কটা ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত ২.৫৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এত বড় মাপের একটা ছবি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যে কতটা আগ্রহ রয়েছে, এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। শুধু উত্তর আমেরিকা থেকেই এসেছে ১.৯১ মিলিয়ন ডলার। প্রবাসী ভারতীয় এবং বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে যে কতটা উত্তেজনা রয়েছে, এটা তারই প্রতিফলন।

যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ড এই প্রি-সেলে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ ডলার যোগ করেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে আয় হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ ডলার। রণবীর কাপুরকে সামনে রেখে ছবিটি মুক্তির প্রথম দিনেই বিদেশে ৭ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ছবিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যে কতটা উজ্জ্বল, তা এখান থেকেই স্পষ্ট।

তারকাখচিত প্রিমিয়ার এবং প্রশংসা

লস অ্যাঞ্জেলেসে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রণবীর কাপুর, সাঁই bobপল্লবী এবং যশের মতো তারকারা। সঙ্গে ছিলেন পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এবং প্রযোজক নমিত মালহোত্রা। প্রাথমিক রিভিউতে ছবিটির বিশাল ক্যানভাস এবং চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়ালের দারুণ প্রশংসা করা হয়েছে। রামের চরিত্রে রণবীর কাপুরের অভিনয় সমালোচক এবং দর্শকদের মন জয় করেছে।

রাবণের চরিত্রে যশও সবার নজর কেড়েছেন। তাঁর অভিনয়ও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। পর্দায় রাম ও রাবণের রসায়ন নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। দর্শকরা ছবিটিকে "অসাধারণ" এবং "মনোমুগ্ধকর" বলে বর্ণনা করেছেন। ছবিটি যেন দর্শকদের মহাকাব্যের যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তবে ছবির গতি বা মিউজিক নিয়ে সবার মত এক নয়, কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেছে। অস্কারজয়ী হান্স জিমার এবং এ.আর. রহমান এই মেগা প্রজেক্টের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন, যা ছবিটির মান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মহাকাব্যের বিশাল ক্যানভাস ও কাস্টিং

রামায়ণকে বড় পর্দায় তুলে আনাটা সত্যিই একটা বিশাল ব্যাপার। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এই ছবি নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি ভক্তি এবং সিনেমার জাঁকজমক—দুটোই একসঙ্গে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। রামের চরিত্রে রণবীর কাপুরকে বেছে নেওয়াটাই প্রমাণ করে যে, এই প্রজেক্টটা কতটা বড় এবং নির্মাতারা কতটা বিশাল সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন।

নির্মাতারা এই ছবির জন্য একঝাঁক তারকাকে এক ছাদের তলায় এনেছেন। রণবীরের পাশাপাশি সীতার চরিত্রে সাঁই পল্লবী এবং রাবণের চরিত্রে যশ অভিনয় করছেন। রামায়ণের মতো ছবির জন্য এই কাস্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবিটি দুটি পর্বে মুক্তি পাবে। শোনা যাচ্ছে, দুটি পর্ব মিলিয়ে ছবিটির বাজেট ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল বিনিয়োগ থেকেই বোঝা যায় যে প্রযোজকরা কতটা সিরিয়াস। তাঁরা দর্শকদের এমন একটা অভিজ্ঞতা দিতে চান, যা তাঁরা কোনোদিন ভুলবেন না। রণবীর কাপুরের এই ছবি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটা মাইলফলক হতে চলেছে।

দেশের বক্স অফিসে উন্মাদনা ও ভবিষ্যৎ

দেশের মাটিতেও ছবিটি নিয়ে দারুণ ক্রেজ দেখা যাচ্ছে। ব্লক করা সিট সহ মুক্তির প্রথম দিনের অ্যাডভান্স বুকিং থেকেই 'রামায়ণ' ইতিমধ্যেই ১৪.০৫ কোটি টাকা আয় করে ফেলেছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কতটা উত্তেজনা রয়েছে। রণবীর কাপুরের মতো তারকা এবং ছবিটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব—এই দুটোই এর বড় কারণ। মোট বিক্রির ৮৬ শতাংশই এসেছে হিন্দি ভার্সন থেকে, যা ভারতের সবচেয়ে বড় ফিল্ম মার্কেটে ছবিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

আন্তর্জাতিক স্তরে ছবিটি ডিস্ট্রিবিউট করছে সোনি পিকচার্স, যাতে এটি বিশ্বের কোণায় কোণায় পৌঁছে যায়। আর হিন্দি বলয়ে ছবিটি রিলিজ করার দায়িত্ব নিয়েছে ধর্মা প্রোডাকশন। প্রথম পর্বটি দর্শকদের মুগ্ধ করবে বলেই আশা করা হচ্ছে। আর দ্বিতীয় পর্বটি মুক্তি পাবে ২০২৭ সালের দীপাবলিতে। এই কালজয়ী মহাকাব্যের যাত্রা এভাবেই এগিয়ে চলবে।