মুম্বাইয়ের হাউজিং সোসাইটির বিরুদ্ধে চরম হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন রিয়্যালিটি টিভি তারকা উরফি জাভেদ। তাঁর দাবি, সোসাইটি নতুন ফতোয়া জারি করে নিজের ফ্ল্যাটে রিলস বানানোকে বেআইনি ঘোষণা করেছে এবং তাঁর অতিথি ও ক্রুদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
উরফি জাভেদ ভীষণ রেগে আছেন। এই রিয়্যালিটি টিভি তারকা মুম্বাইয়ের হাউজিং সোসাইটির বিরুদ্ধে রীতিমতো হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, নতুন নিয়ম চাপিয়ে তাঁকে নিজের বাড়িতে কন্টেন্ট শুট করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তারা তাঁর বাড়িতে আসা অতিথিদেরও জোর করে আটকে দিচ্ছে। ২৭ অক্টোবর, ২০২৬: উরফি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন। তিনি জানান, তাঁর সোসাইটি এখন ফতোয়া দিয়েছে যে নিজের ফ্ল্যাটের ভেতরে 'রিলস বানানো বেআইনি' (Shooting Reels Is Illegal)।
কন্টেন্ট তৈরিতে বাধা এবং অতিথিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
উরফির সঙ্গে সোসাইটির এই ঝামেলা অবশ্য নতুন নয়। তিনি এর আগে অতিথিদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। উরফির দাবি, এরপর থেকেই সোসাইটির কমিটি আরও কড়াকড়ি শুরু করেছে। কারণটা কী? তিনি সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো অতিথি এলে বাড়িওয়ালার অনুমতি নিতে হবে, এমন একটি পুরোনো নিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
উরফির অভিযোগ, কমিটি শুধুমাত্র তাঁকে টার্গেট করতেই এই নতুন নিয়ম বানিয়েছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, "আপনি নিজের বাড়িতে কন্টেন্ট শুট করতে পারবেন না।" উরফির মতে, কমিটির যুক্তি হলো তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া শুটগুলো নাকি 'বাণিজ্যিক কাজ' (commercial activity)। তাদের দাবি, অনলাইনে ভিডিও আপলোড করলে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ে। আর এই যুক্তি দেখিয়েই তারা বলছে, নিজের বাড়িতে 'রিলস বানানো বেআইনি'। তারা উরফি এবং তাঁর অতিথিদের মুখের ওপর সরাসরি এ কথা জানিয়ে দিয়েছে।
তারা শুধু উরফি নন, তাঁর অতিথি এবং ফিল্ম ক্রুদেরও আটকে দিচ্ছে। কারও কাছে ক্যামেরা বা সরঞ্জাম আছে সন্দেহ হলেই গেটে ব্যাগ চেক করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তারা একজন পরিচিত সাংবাদিক এবং তাঁর টিমকে একটি প্ল্যান করা শুটের জন্য ঢুকতে দেয়নি। উরফির কন্টেন্ট তৈরি থামানোর জন্য এটা যে একটা সরাসরি চেষ্টা, তা বেশ স্পষ্ট। তারা তাঁর সহকর্মী এবং সরঞ্জাম ঢোকার ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে।
প্রতিহিংসা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ
উরফি এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মূল চিন্তার বিষয় হলো, লোকজনকে তাঁর বাড়িতে ঢুকতে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সোসাইটির এই কাজগুলোকে সরাসরি প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন। তাঁর বিশ্বাস, অতিথিদের নিয়ম নিয়ে আগে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 'রিলস বানানো বেআইনি' ঘোষণাটি কোনো সাধারণ নিয়ম নয়, বরং এটি একটি টার্গেটেড আক্রমণ।
নিজের অধিকারের কথা জোর দিয়ে উরফি বলেন, "অন্য সবাই তো নিজের বাড়িতে কন্টেন্ট শুট করে; তাহলে এই নিয়মটা আইনি হয় কী করে? আমি নিজের বাড়িতে কী করব, সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার!" তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সোসাইটির কর্তাদের বিরুদ্ধে "নিচু মানের কৌশল" ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। বাড়িওয়ালা তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার দাবি খারিজ করার পরই এই ঘটনা ঘটে। 'রিলস বানানো'র ওপর এই সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আসলে সেই কৌশলেরই একটা অংশ। এটি তাঁর নিজের বাড়িতে বসেই তাঁর পেশাগত রোজগারের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। এই ঘটনা সোসাইটির ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি ব্যক্তি স্বাধীনতা বনাম সোসাইটির নিয়ম নিয়ে একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিতর্কের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আইনি দিক
উরফি সোসাইটির কাজের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি তাদের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু হাউজিং সোসাইটি এখনও চুপ। তারা এই নতুন অভিযোগগুলো, বিশেষ করে 'রিলস বানানো বেআইনি' দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে অতিথিদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উরফির আগের অভিযোগে মুম্বাই পুলিশ সাড়া দিয়েছিল। তারা সোসাইটির বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছিল।




