'রণবালি' সিনেমার সাফল্যের পর বিজয় দেবেরাকোণ্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা পুট্টাপর্তিতে ঘুরে এলেন। সেখানে বিজয়ের ছোটবেলার স্কুল ও হস্টেল দেখে রশ্মিকা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশে গিয়েই তিনি বিজয় ও আনন্দের ভালো গুণগুলোর আসল রহস্য খুঁজে পেয়েছেন।

টলিউডের জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবেরাকোণ্ডা আর রশ্মিকা মন্দানা এখন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ চর্চায় রয়েছেন। বিয়ের পর এই জুটির প্রথম সিনেমা 'রণবালি' দর্শকদের দারুণ রেসপন্স পাচ্ছে। এরই মধ্যে এই জুটি ঘুরে এলেন আধ্যাত্মিক শহর পুট্টাপর্তিতে। সবচেয়ে স্পেশাল ব্যাপার হলো, রশ্মিকা বিজয়ের ছোটবেলার স্কুল, ক্লাসরুম আর হস্টেল নিজের চোখে দেখে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানিয়েছেন, ওখানকার পরিবেশ তাঁর মনে এক অদ্ভুত শান্তি এনে দিয়েছে। রশ্মিকার এই ইমোশনাল পোস্ট এখন নেটিজেনদের নজর কাড়ছে।

নিজের চোখে বিজয়ের ছোটবেলা দেখলেন রশ্মিকা!

বিজয় আর রশ্মিকা অভিনীত 'রণবালি' রিলিজের পর থেকেই এই জুটিকে নিয়ে ফ্যানদের উত্তেজনা তুঙ্গে। সিনেমার সাফল্যের মাঝেই বিজয়ের জীবনের একটা বড় অংশ, পুট্টাপর্তিতে রশ্মিকার এই সফর বেশ স্পেশাল। ছোটবেলায় বিজয় কেমন ছিলেন? তাঁর স্কুলের দিনগুলো কেমন কাটত? বন্ধুদের সঙ্গে কেমন আড্ডা হতো? রশ্মিকা এসব গল্প আগেই অনেকবার শুনেছেন। বিজয়ের সব বন্ধুরাই পুট্টাপর্তিতে পড়াশোনা করেছেন। তাঁদের কাছ থেকেই এই জায়গাটার ব্যাপারে অনেক কিছু জেনেছিলেন অভিনেত্রী। রশ্মিকা নিজের পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি ভালোবেসে বিজয়ের বন্ধুদের 'পর্তি বয়েজ' আর 'পর্তি গার্লস' বলে ডাকেন। এতদিন ধরে যে জায়গার গল্প শুনে এসেছেন, সেটা নিজের চোখে দেখতে পেয়ে দারুণ খুশি রশ্মিকা।

স্কুল, ক্লাসরুম আর হস্টেলে ঘোরাঘুরি!

রশ্মিকা বিজয়ের সঙ্গে পুট্টাপর্তিতে গিয়ে তাঁর পুরনো স্কুল, ক্লাসরুম আর হস্টেল ঘুরে দেখেন। ওখানকার পরিবেশ আর মানুষদের সঙ্গে মেশার অভিজ্ঞতা তাঁর মনে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তিনি সেখানে বেশ কয়েকজন দারুণ মানুষের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষ করে 'হেডমাস্টার আন্টি'-র সঙ্গে দেখা করে তাঁর ভীষণ ভালো লেগেছে।

রশ্মিকা জানিয়েছেন, ওই জায়গায় থাকার সময় মনে যে শান্তি পেয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ছোট ছোট বাচ্চারা ভক্তিভরে বেদ পাঠ করছে, ভজন গাইছে— এই দৃশ্য তাঁর মন ছুঁয়ে গেছে।

বিজয় আর আনন্দের ভালো গুণগুলোর রহস্য কি এটাই?

রশ্মিকা জানিয়েছেন, বিজয় আর তাঁর ভাই আনন্দ দেবেরাকোণ্ডার মধ্যে যে ভালোবাসা, দয়া আর মানবিকতা রয়েছে, তা দেখে তিনি সবসময় অবাক হতেন। কিন্তু পুট্টাপর্তিতে যাওয়ার পর তাঁর কাছে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গেছে। বাচ্চারা যে পরিবেশে বড় হয়, বাবা-মায়ের দেওয়া সংস্কার আর শিক্ষকদের শেখানো মূল্যবোধই তাদের ব্যক্তিত্ব তৈরি করে। রশ্মিকা নিজের পোস্টে এই কথাটাই তুলে ধরেছেন। অভিনেত্রী বিজয়ের ছোটবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জায়গাটা নিজের চোখে দেখার পর, তাঁকে আরও গভীরভাবে বুঝতে পেরেছেন। বিজয় দেবেরাকোণ্ডার ছোটবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই পুট্টাপর্তি সফর রশ্মিকার কাছে শুধু একটা ট্রিপ ছিল না। এটা ছিল একটা ইমোশনাল আর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। অভিনেত্রীর এই পোস্ট এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, আর ফ্যানেরও এই জুটিকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন।