শিল্পী কবীর সুমন এক সাক্ষাৎকারে নিজেকে 'তৃণমূলপন্থী নন' বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি ভোটে দাঁড়ালেও, তৃণমূল সরকারের একাধিক ভুলের সমালোচনা করেন, বিশেষ করে চাকরি ক্ষেত্রে। 

গত মার্চ মাসে ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চে তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কবীর সুমন। এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এবার ভোটে বাংলার রং বদল হতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন শিল্পী কবীর সুমন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বললেন, আমি তো তৃণমূলপন্থী নই। আমি তৃণমূলের সদস্য নই। আমায় মমতা প্রায় হাতে পায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্য ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, তৃণমূল সরকারের একাধিক ভুল আছে। যেটা মানুষ ভালো চোখে নেয়নি। অন্যতম হল চাকরি, অসংখ্য মানুষ রাতারাতি বেকার হয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে মমতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কী সব ঠিক কাজ করেছেন? উত্তর না, তিনি পারেননি। আমি এবার তৃণমূলকে ভোট গিয়েছি ঠিকই কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও অ্যাটিটিউডে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন সবুজসাথী, বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটি মন্দির হবে।

তিনি আরও বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ বা রাজনীতি নিয়ে কোনওকিছুই খবর রাখি না। আনি ফেসবুকে মন্তব্য করি, কারণ আমি চাই তৃণমূল জিতুক। সিপিএম বা তৃণমূল আমলে মেয়েদের নিরাপত্তা কিন্তু সুনিশ্চিত ছিল। আমি আশাকরব, নতুন সরকার যেন এই ট্রাডিশন বজায় রাখবে।… এখনও ভোট হলে আমি তৃণমূলকেই দেব। তবে সেরকম কোনও কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। আমি তাঁদের জন্য গান বাঁধব। তাঁদের পাশে থাকব।

এভাবে সকলের চোখে নিজের ভাবমূর্তি বদলের চেষ্টা করেন কবীর সুমন। এতদিন দলে থাকার পর বললেন, তিনি নাকি তৃণমূলের সদস্য নন। মুখ্যমন্ত্রী জোর করে তাঁকে দলে নিয়েছিল।