পরিচালক বিশেষ ভাট জানালেন, 'আওয়ারাপান ২' আর 'বাটওয়ারা ১৯৪৭'-এর বক্স অফিস লড়াইটা ইচ্ছে করে করা হয়নি। ইমরান হাশমির চোটের কারণে ছবির শুটিং পিছিয়ে যায়, তাই বাধ্য হয়েই মুক্তির দিন বদলাতে হয়েছে।
একই দিনে সিনেমাহলে মুক্তি পেল 'আওয়ারাপান ২' আর 'বাটওয়ারা ১৯৪৭'। বক্স অফিসে এই মুখোমুখি লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক বিশেষ ভাট। তিনি পরিষ্কার জানালেন, ইচ্ছে করে এই ক্ল্যাশ বাধানো হয়নি।
ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে 'আওয়ারাপান ২'-এর পরিচালক বিশেষ ভাট বলেন, ছবিটা আসলে আরও আগে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুটিংয়ের সময় ইমরান হাশমি চোট পাওয়ায় পুরো পরিকল্পনা ঘেঁটে যায়। বিশেষ বলেন, "না, সত্যি বলতে আমরা ইচ্ছে করে এই ক্ল্যাশটা প্ল্যান করিনি। আমাদের ছবিটা এপ্রিলে রিলিজ করার কথা ছিল। কিন্তু ডিসেম্বরে শুটিংয়ের সময় ইমরান চোট পায়, তাই আমাদের শুটিং থামিয়ে দিতে হয়।"
বিশেষের মতে, এরপর একাধিক ছবি তাদের মুক্তির দিন পিছিয়ে দেওয়ায় পুরো রিলিজ ক্যালেন্ডারটাই ওলটপালট হয়ে যায়। তিনি জানান, তাঁরা একটা ভালো তারিখ খুঁজছিলেন এবং পরিস্থিতি দেখেই মুক্তির দিন ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমরা এপ্রিলের আগেই একটা তারিখ খুঁজছিলাম। এপ্রিলের আশেপাশে তো প্রায় যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল, যার জন্য 'টক্সিক'-এর মতো অনেক ছবিই পিছিয়ে যায়। পুরো ক্যালেন্ডারটাই বদলে যাচ্ছিল।”
বিশেষ জানান, ডিস্ট্রিবিউটররা তাঁদের জানিয়েছিলেন যে একই দিনে 'বাটওয়ারা ১৯৪৭' মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু তাঁদের মনে হয়েছিল, দুটো ছবি আলাদা গোত্রের হওয়ায় ছুটির বাজারে দুটোই ভালো ব্যবসা করতে পারবে। বিশেষের কথায়, "তখন আরও অন্য ছবি আসার কথা ছিল, হলিউডের ছবিও ছিল। ডিস্ট্রিবিউটররা আমাদের বলেন যে ১৪ তারিখে বাটওয়ারা আসছে, কিন্তু আমাদের ছবিটা অন্য ধরনের। তা ছাড়া ছুটির সময়ও ছিল।"
“ওঁদের মনে হয়েছিল, দুটো ছবি একসঙ্গেই চলতে পারে, কারণ ছুটির সময় বাজারে যথেষ্ট জায়গা থাকে। ইতিহাসে এমন অনেকবার হয়েছে। ২০০০-এর দশকে যখন 'গদর' আর 'লগান' একসঙ্গে এসেছিল, দুটোই দারুণ ব্যবসা করেছিল।”
তবে এত কিছুর পরেও, বিশেষ স্বীকার করেছেন যে এই তারিখে রাজি হওয়ার আগে তিনি একবার থমকেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই দ্বিধার কারণ শুধু বক্স অফিস ক্ল্যাশ নয়, বরং প্রথম 'আওয়ারাপান' নিয়ে তাঁর পুরনো অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, "কিন্তু এটা ক্ল্যাশের জন্য নয়। আমি একটু থেমেছিলাম কারণ 'আওয়ারাপান ১'-এর সময় আমার মন ভেঙে গিয়েছিল।"
বিশেষ ২০০৭ সালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেবারও তাঁদের ছবিকে আরও দুটো ছবির সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়েছিল। দর্শকদের নজর কাড়তে তাঁদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। তিনি বলেন, "যখন আওয়ারাপান আরও দুটো ছবির সঙ্গে মুক্তি পায়, আমরা দর্শকদের কাছে পৌঁছতে আর নজর কাড়তে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। ইমরান তো নাচতে পারে না, কিন্তু আমরা ওকে দিয়ে আইফা অ্যাওয়ার্ডসে (IIFA Awards) নাচিয়েছিলাম, শুধু যাতে লোকে আমাদের ছবিটাকে খেয়াল করে।"
পরিচালক জানান, সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল। তাঁর ভয় ছিল, 'আওয়ারাপান ২'-এর ভাগ্যেও একই জিনিস ঘটতে পারে, বিশেষ করে যখন একই সময়ে আরেকটি বড় ছবি আসছে। “আমরা এমন একটা সময় থেকে এসেছি যখন কেউ আমাদের পাত্তাই দেয়নি। তাই আমার মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছিল যে আমি আবার আওয়ারাপান বানাচ্ছি। আমার ভয় ছিল, এবারও হয়তো আমাদের ছবিটা কেউ খেয়াল করবে না।”
বিশেষ জানান, তাঁকে বারবার বোঝানো হয় যে এবার বাজার দুটো ছবি চালানোর জন্য যথেষ্ট বড় এবং ডিস্ট্রিবিউটর ও সিনেমাহলের মালিকরাও এই তারিখটাকে উপযুক্ত মনে করছেন। "অনেকেই আমাকে বারবার বলছিল যে এবার এমনটা হবে না, বাজারে যথেষ্ট জায়গা আছে, আমাদের তারিখ ঘোষণা করে দেওয়া উচিত। আমি রাজি হয়ে যাই। ডিস্ট্রিবিউটর আর হল মালিকদেরও মনে হয়েছিল এটা ভালো তারিখ, তাই আমি এগিয়ে যাই।"
২০০৭ সালের কাল্ট ছবি 'আওয়ারাপান'-এর সিক্যুয়েল 'আওয়ারাপান ২' স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে আজ সিনেমাহলে মুক্তি পেয়েছে। এই ছবিতেও ইমরান হাশমিকে শিবম পণ্ডিতের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। (ANI)
