বিখ্যাত সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের মৃত্যুর মামলায় একটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত ৭ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে। ৮ জুন থেকে মামলার মূল বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে এবং অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
বিখ্যাত সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের মৃত্যুর মামলায় মঙ্গলবার একটি বিশেষ ফাস্ট- ট্র্যাক আদালত ৭ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে, ৮ জুন থেকে মামলার মূল বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে এবং প্রতিদিন শুনানি চলবে।

সরকারি আইনজীবী জিয়াউল কামার জানান, বিচারক শর্মিলা ভূঁইয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। প্রত্যেক অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। আদালত এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
আইনজীবী আরও জানান, আজ থেকে আর কোনও প্রাথমিক বা বিবিধ শুনানি হবে না। সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে ৮ জুন থেকে। একই সঙ্গে প্রসিকিউশনকে একবারেই সাক্ষীদের তালিকা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই তালিকা মেনেই ডাকা হবে সাক্ষীদের।
এই মামলায় সাতজন বর্তমানে জেলে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিকধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবহেলাজনিত মৃত্যু এবং অপরাধমূলক নরহত্যা সংক্রান্ত ধারা। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান সংগঠন শ্যামকানু মহন্ত, গায়কের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, দুই ব্যান্ড সদস্য, এক আত্মীয় এবং দুই নিরাত্তাকর্মী আছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সমুদ্রে সাঁতার কাটকে গিয়ে প্রয়াত হন জুবিন গর্গ। তিনি উত্তর পূর্ব ভারত উৎসবে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, সেখানে রহস্যজনক ভাবে প্রয়াত হন জুবিন।
গর্গ তার বহুমুখী প্রতিভার জন্য ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি তার কর্মজীবনে অসমিয়া, বাংলা, হিন্দি সহ মোট ৪০টি ভাষায় গান গেয়েছেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন সুরকার, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক। সঙ্গীত প্রযোজক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, চলচ্চিত্র প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, কবি এবং সমাজসেবী ছিলেন। শিল্পকলার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা তাকে ভারতীয় বিনোদন জগতে একটি অনন্য স্থান এনে দিয়েছে। একজন দক্ষ বহু-বাদ্যযন্ত্র বাদক জুবীন গর্গ। তিনি ঢোল, দোতারা, হারমনিয়াম এবং তবলা সহ ১২টি ভিন্ন ভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন। বিভিন্ন সঙ্গীত ঐতিহ্য এবং বাদ্যযন্ত্রের মিশ্রণের দক্ষতা তার স্বতন্ত্র শব্দ এবং বিস্তৃত অবদান রাখে, যা তাঁকে অসমের সবচেয়ে সম্মানিত শিল্পীদের একজন করে তুলেছিল।


