Hormuz Strait: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না, ইরানকে সাফ জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এমন কিছু হলে ইরানের ওপর ভয়ঙ্কর হামলা চালানো হবে। আমেরিকা ইরান যুদ্ধের আজ ১৫ দিন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ওয়াশিংটন তার যোগ্য জবাব দেবে। প্রয়োজনে ভয়ঙ্কর শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লেও আমেরিকা বিশ্ব বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর। ট্রাম্প বলেন, "একটা সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র গোটা বিশ্বকে পণবন্দি করে তেলের জোগান বন্ধ করে দেবে, এটা আমি হতে দেব না। ইরান যদি এমন কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর অনেক, অনেক কঠিন হামলা হবে... এই খেলাটা না খেলাই তাদের জন্য ভালো। ইরানের জাহাজ, ড্রোন, মিসাইল বা পরমাণু অস্ত্রের হুমকি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেলের সরবরাহ অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী কড়া নজর রাখছে, যাতে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ থাকে। বিশ্বের একটা বড় অংশের তেল এই পথ দিয়েই যায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, "হরমুজ প্রণালী নিরাপদ থাকবে। আমাদের প্রচুর নৌবাহিনীর জাহাজ সেখানে আছে। মাইন খোঁজার জন্য বিশ্বের সেরা সরঞ্জাম আমাদের কাছে রয়েছে। ওদের বেশিরভাগ জাহাজ তো এখন সমুদ্রের তলায়। কিন্তু ওরা যদি কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা এমন জোরে আঘাত করব যে ওরা বা ওদের সাহায্যকারীরা আর কখনও ওই অঞ্চলের দখল নিতে পারবে না।"
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত। এটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের তেল পরিবহণের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এখানে কোনও সমস্যা হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা উত্তেজনা ক্রমশই বেড়েছে। বিশেষ করে ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমেরিকা বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজ আটকানো বা হুমকি দেওয়ার চেষ্টা হলে কড়া জবাব দেওয়া হবে।
তেল ট্যাঙ্কারের ওপর সম্ভাব্য হামলা রুখতে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথ সুরক্ষিত রাখতে আমেরিকা ওই অঞ্চলে নৌবাহিনীর টহল ও নজরদারিও বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে, ওয়াশিংটনের কাছে সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা খোলা রাখা একটি প্রধান কৌশলগত অগ্রাধিকার। বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও পরিবহণে যেকোনো ধরনের সমস্যা বিশ্ব বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রসঙ্গত, আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে।


