তৃণমূলের চাপ ও ভয় দেখানোতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপি ছেড়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন। এমনটাই মনে করছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। মেহতাবের দল ছাড়ার পেছনে শাসক দলের যোগ রয়েছে বলেই দাবি পদ্ম শিবিরের। ২১ জুলাই একদিকে যখন ভার্চুয়াল সভা থেকে ২০২১ সালে বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত করার হুঙ্কার দিচ্ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সময়ই বিজেপিতে যোগ দান করেন মেহতাব হোসেন। তার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান খোজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপিতে যোগ দিয়ে মেহতাব জানিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের হয়ে আরও বেশি কাজ করার জন্যই তার  রাজনীতিতে আসা। একইসঙ্গে বিজেপি কোনও সাম্প্রদায়িক দল নয় বলেও জানান মেহতাব। যোগদানের পর বেশ ফুরফুরেই দেখিয়েছিল মেহতাবকে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিজেরি সিদ্ধান্ত বদল করায় তৈরি হয় নয়া জল্পনা।

আরও পড়ুনঃআইএসএলের নয়া নজির, ইপিএল,লা লিগা,বুন্দেস লিগার সঙ্গে একই আসনে বসল ভারতীয় ফুটবল

বুধবার যে মেহতাব জানিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কথা বলে তার ভাল লেগেছে। অনেক ভাবনা চিন্তা করেই বিজেপিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই মেহতাবই রাত পেরোতে না পেরোতেই ভোলবদল করেন। বৃহস্পতিবার হঠাৎই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে নিজের বিজেপি ছাড়ার কথা জানান মেহতাব হোসেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মেহতাব জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা না বলেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এছাড়াও যাদের জন্য বিজেপিতে যাওয়া সেই সকল সাধারণ মানুষ ও আমাকে যারা ফুটবলার মেহতাব হিসেবে খুব ভালবাসেন, তারা কেউই চান না আমি রাজনীতিতে যোগ দিই। তাদের কাছে আমি এখনও ফুটবলার , মিডফিল্ড জেনারেল । ওদের ভালবাসাই আমাকে মেহতাব করে তুলেছিল । তাই অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম, রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। বিজেপি নেতৃত্বকে দল ছাড়ার বিষয়েও জানিয়ে দেন ফুটবল তারকা।

আরও পড়ুনঃ'কাঁধে বল লাগলেও সচিনের আউটের সিদ্ধান্ত নির্ভুল ছিল', ২০ বছর পরও সিদ্ধান্তে অনড় আম্পায়ার ড্যারিল হার্পার

আরও পড়ুনঃহঠাৎ কেনও কার্লোস ব্রাথওয়েটকে ব্যালন ডি'অর দেওয়ার দাবি জানাল আইসিসি

মেহতাবের এই দল ছাড়াকে সহজ ভাবে নিচ্ছেন না বিজেপি নেতৃত্ব। ২৪ ঘণ্টাও কাটল না, তার মধ্যে এমন কী ঘটল যে মেহতাব দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল?মেহতাব হোসেনের দলত্যাগের পিছনে পারিবারিক চাপকে দায়ী করেন তিনি। তবে গোটা ঘটনার পিছনে তৃণমূলের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। তিনি বলেন,'তৃণমূল ওর উপর চাপ দিচ্ছে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই।' একই সুর সায়ন্তন বসুর গলায়ও। তাঁর কথায়,'ভয় দেখিয়ে ওকে বিজেপি ছাড়ানো হচ্ছে! এবং অন্য দলে জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই তো রাজ্যের গনতন্ত্রের চেহারা।' জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, এঘটনাতেই প্রমাণিত যে বাংলার কি অবস্থা। তবে মেহতাব হোসনের বিজেপি যোগ ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপি ত্যাগ বঙ্গ রাজনীতিতে করোনা আবহে বঙ্গ রাজনীতিতে নয়া মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।