শতবর্ষের উৎসবের আবহে কলকাতা ফুটবল লিগের শুরুটা মোটেই ভাল হল না ইস্টবেঙ্গলের। প্রথম ম্যাচেই নিজেদের ঘরের মাঠে একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে হার হজম করতে হল আলেহান্দ্রো মেনেন্দেজের দলকে। অন্যদিকে লিগে নিজেদের তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেয়ে এক নম্বরে উঠে গেল জর্জ টেলিগ্রাফ।

শেষ ম্যাচে ডুরান্ড কাপে জামশেদপুর এফসিকে ৬-০ গোলে হারিয়েছিল লাল-হলুদ। কিন্তু সেই দলের থেকে এদিনের দলে অনেকটাই ফারাক ছিল। আট-আটটি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন মেনেন্দেজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইমে কোলাদো, কাশিম আইদারাদের নথিভুক্ত করানো হয়নি। তাই তাঁরা খেলতে পারছেন না কলকাতা লিগে। তবে শুক্রবার অভিষেক হল স্পেনিয়য় ডিফেন্ডার মার্তি ক্রেসপি-র।

প্রথমার্ধে কোনও দলই বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। উদ্দেশ্যহীন লংবল আর একের পর এক মিস পাসে খেলা অত্যন্ত বিরক্তিকর হয়েছে। তারমধ্যেও জর্জ টেলিগ্রাফই বেশি সুযোগ পেয়েছিল। লাল-হলুদ গোলরক্ষক দাগার একটি ভুল করে বসেন, আর জর্জের সানডে একাই একবার ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে ভেঙে ফেলেছিলেন। দুটি ক্ষেত্রেই বিপদ ঘটেনি। তবে লাল হলুদের তরুণ মিডফিল্ডার শুভনীল ঘোষ সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও দাপটে শুরু করেছিল জর্জ টেলিগ্রাফ। রাজীব শাউ-এর শট ক্রসবাররে লেগে ফিরে আসে। এরপরই পর পর তিনটি পরিবর্তন করেন মেনেন্দেজ। পিন্টু মাহাতো, রহুলপুইয়া ও ব্র্যান্ডন আসায় আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়লেও, হাইমে থাকলে আক্রমণে যে সৃষ্টিশীলতা দেখা যায়, তা দেখা যায়নি। জর্জের রক্ষণভাগও দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গিয়েছে।

খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ভাবা হয়েছিল গোলশূন্য অবস্থাতেই ম্যাচ শেষ হচ্ছে। কিন্তু একবারে শেষ বাঁশি বাজার আগের মুহূর্তে  অরুণ সুরেশের রক্ষণ চেড়া পাস থেকে গড়ানে শটে বল লাল-হলুদ জালে জড়িয়ে দেন জর্জের নাইজেরিয় ফরোয়ার্ড জাস্টিস মর্গান। তাতেই লিগের শুরুতেই ধাক্কা খেল শতবর্ষের ক্লাব।