দেখতে দেখতে তাঁর প্রয়াণের পর কেটে গেল পাঁচটি দিন। গত ৩০ এপ্রিল  ভারতীয় ফুটবলের আকাশে আরও এক নক্ষত্র পতন হয়। পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই প্রয়াত হন দেশের আরেক কিংবদন্তী ফুটবালর চুনী গোস্বামী। ৮২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্য়াগ করেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয় প্রবাদ প্রতীম ফুটবলারের। দীর্ঘ দিন ধরেই ভুগছিলেন হৃদরোগের সমস্যায়৷ সঙ্গেও সুগার, প্রস্টেট ও নার্ভের সমস্যা ছিল। ভারতীয় ফুটবলকে বিশ্বের দরবারে নিয়ে গিয়েছিলেন চুনী গোস্বামী।  ১৯৫৪ থেকে ৬৭ সাল পর্যন্ত টানা মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন চুনী গোস্বামী। এছড়া দেশের হয়ে ৫০টি  আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৯৬২ সালে চুনী গোস্বামীর অধিনায়কত্বেই এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল ভারতীয় ফুটবল দল।  ঘরোয়া লিগে মোহনবাগানের হয়ে সবচেয়ে সফল তিনি। ১৯৬৩ সালে অর্জুন পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০০৫ সালে মোহনবাগান রত্ন পুরস্কারে সম্মানিত হন চুনী গোস্বামী। শুধু ফুটবলই নয়, ক্রিকেটেও সমান পারদর্শী ছিলেন চুনী গোস্বামী। একটা সময় বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও খেলেছেন। বাংলার রনজি দলকে নেতৃত্বও দেন। কিন্তু এমন একটা সময় তিনি সকলকে ছেড়ে গেলেন যে কেউ তাকে শেষ শ্রদ্ধা টুকু জানাতে পারল না। সোশ্যাল মিডিয়াতেই শোক জ্ঞাপন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ক্রীড়া জগৎ ও বিনোদন জগতের তারকারা।

আরও পড়ুনঃমদের দোকান খোলার সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় সমালোচনা হরভজন সিংয়ের

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে চুনী গোস্বামীর প্রয়াণের পর আয়োজন করা গেল না স্মরণসভা টুকু। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এত দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কয়কটি শোকসভা আয়োজিত হত পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় ও চুনী গোস্বামীকে সম্মান জানাতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুই সম্ভব নয়। তাই অনলাইনে শোকসভা আয়োজন করা হল চুনী গোস্বামীর। উদ্যোক্তা দিল্লি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাজি প্রভাকরণ। তবে শুধু চুনী গোস্বামী বললে ভুল হবে। অনলাইন শোকসভায় বারবার করে উচ্চারিত হল প্রয়াত পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। আলোচনায় ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার সুভাষ ভৌমিক, গডফ্রে পেরেরা, ব্রক্ষ্মানন্দ, গৌতম ঘোষ। ছিলেন মোহনবাগান অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত এবং তিন সাংবাদিকও। 

আরও পড়ুনঃইতালিতে ফিরলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো,কোয়ারেন্টাইন কাটিয়ে নামবেন অনুশীলনে

আরও পড়ুনঃপাক ক্রিকেটে দুর্নীতির মাত্রা কখনওই কম ছিল না,বিস্ফোরক মন্তব্য মহম্মদ আসিফের

স্মরণসভায় প্রত্যেকে তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে ভারতীয় ফুটবলে চুনী গোস্বামীর অবদান তুলে ধরেন। সুভাষ ভৌমিক চুনী গোস্বামী সম্পর্কে বলেন, ভারতের ডেনিস কম্পটন। লকডাউনে লোকচক্ষুর আড়ালে চির বিদায় প্রসঙ্গে বলেন, “প্রদীপদা চাইতেন সবাইকে নিয়ে থাকতে। তাই লকডাউনে তাঁর মৃত্যুর সময়েও কিছু মানুষের সমাগম। চুনীদা হয়তো এভাবেই বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। রবীন্দ্র সদনের মাটিতে তিনি কিছুতেই শুয়ে থাকতেন না। চুনী গোস্বামীকে যেভাবে দেখেছি, তাতে মৃত্যুকালীন সময়ে তাঁর চেহারাটা কিছুতেই কাউকে দেখতে দিতেন না।” দেবাশিস দত্ত প্রয়াত চুনী গোস্বামীর সঙ্গে তাঁর এবং ক্লাবের সম্পর্কের আলোচনা করে তোলেন পিকের কথা। টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির দায়িত্বে থাকার সময়েও কীভাবে ফোনে তিনি মোহনবাগানকে ম্যাচের আগে পরামর্শ দিতেন, সেই ঘটনার কথা বলেন। অনলাইনে হলেও চুনী গোস্বামী ও পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন। সকলে এক বাক্যে স্বীকার করেন সেই সময়টা ছিল ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগ।